দৈনিক লাল বার্তা

মিথ্যা অপপ্রচার ও হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন



মিথ্যা অপপ্রচার ও হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বেড়া গ্রামে যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের পাশে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় স্থানীয়দের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার, সাজানো ঘটনা, হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এলাকাবাসীর পক্ষে মো. আশরাফ সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বেড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আশরাফ সরকার। তিনি অভিযোগ করে বলেন, যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে জনপদ, ফসলি জমি ও স্থাপনা রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীতীর সংরক্ষণ কাজ বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সন্নিকটে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বালু উত্তোলন করে আসছেন একই গ্রামের মো. মতিয়ার রহমান (টুকু)।

তিনি দাবি করেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প হুমকির মুখে পড়ছে এবং ভবিষ্যতে নদীভাঙনের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এ বিষয়ে এলাকাবাসী বারবার প্রতিবাদ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে নানামুখী অপপ্রচার ও ভয়ভীতি প্রদর্শন শুরু করেন।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদকারীদের দমিয়ে রাখতে মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকি, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এমনকি নারীদের ব্যবহার করে সাজানো ঘটনা সৃষ্টি করে নিরীহ ব্যক্তিদের ফাঁসানোর অপচেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আশরাফ সরকার বলেন, “আমরা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, এলাকার মানুষের নিরাপত্তা, নদী রক্ষা এবং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের স্বার্থে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। কিন্তু এর জেরে আমাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা অপপ্রচার, ভয়ভীতি, মানহানির চেষ্টা ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। এসব ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

তিনি অভিযোগ করেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়টি আড়াল করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে এবং প্রতিবাদকারী ব্যক্তিদের সামাজিক ও আইনি জটিলতায় ফেলার চেষ্টা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, মিথ্যা অপপ্রচার ও হয়রানি বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ সময় উপস্থিত এলাকাবাসী বলেন, যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্প রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় কোটি কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প এবং নদী তীরবর্তী জনপদ নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়বে।

উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত সব অভিযোগ অভিযোগকারীদের নিজস্ব বক্তব্য। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক লাল বার্তা

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬


মিথ্যা অপপ্রচার ও হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

featured Image



গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বেড়া গ্রামে যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের পাশে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় স্থানীয়দের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার, সাজানো ঘটনা, হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এলাকাবাসীর পক্ষে মো. আশরাফ সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বেড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আশরাফ সরকার। তিনি অভিযোগ করে বলেন, যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে জনপদ, ফসলি জমি ও স্থাপনা রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীতীর সংরক্ষণ কাজ বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সন্নিকটে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বালু উত্তোলন করে আসছেন একই গ্রামের মো. মতিয়ার রহমান (টুকু)।

তিনি দাবি করেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প হুমকির মুখে পড়ছে এবং ভবিষ্যতে নদীভাঙনের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এ বিষয়ে এলাকাবাসী বারবার প্রতিবাদ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে নানামুখী অপপ্রচার ও ভয়ভীতি প্রদর্শন শুরু করেন।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদকারীদের দমিয়ে রাখতে মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকি, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এমনকি নারীদের ব্যবহার করে সাজানো ঘটনা সৃষ্টি করে নিরীহ ব্যক্তিদের ফাঁসানোর অপচেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আশরাফ সরকার বলেন, “আমরা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, এলাকার মানুষের নিরাপত্তা, নদী রক্ষা এবং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের স্বার্থে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। কিন্তু এর জেরে আমাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা অপপ্রচার, ভয়ভীতি, মানহানির চেষ্টা ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। এসব ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

তিনি অভিযোগ করেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়টি আড়াল করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে এবং প্রতিবাদকারী ব্যক্তিদের সামাজিক ও আইনি জটিলতায় ফেলার চেষ্টা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, মিথ্যা অপপ্রচার ও হয়রানি বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ সময় উপস্থিত এলাকাবাসী বলেন, যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্প রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় কোটি কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প এবং নদী তীরবর্তী জনপদ নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়বে।

উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত সব অভিযোগ অভিযোগকারীদের নিজস্ব বক্তব্য। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।


দৈনিক লাল বার্তা

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা