একটি হাসিখুশি পরিবার, কিছু রঙিন স্বপ্ন আর এক বুক আশা—সবকিছু মুহূর্তের মধ্যেই পিষে দিয়ে গেল একটি দ্রুতগামী বাস। শুক্রবার (৫ জুন, ২০২৬) সকালে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে তিনটি তাজা প্রাণ। ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে ১৬ বছর বয়সী স্কুলপড়ুয়া কিশোরী তামান্না খাতুনের চেনা পৃথিবীটাকে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে বেলকুচির মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও অটোভ্যানের মধ্যে মুখোমুখি ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তামান্নার বাবা মোতালেব সরকার (৪০), মা ফজিলা খাতুন (৩৫) এবং অটোভ্যানচালক নুরু (৪৫)।
যাঁরা কিছুক্ষণ আগেও একে অপরের হাত ধরে পথ চলছিলেন, এক পলকের অসাবধানতা কিংবা নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে তাঁরা এখন চিরতরে শান্ত।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হয়েছে মোতালেব-ফজিলা দম্পতির একমাত্র মেয়ে তামান্না খাতুন (১৬)। বর্তমানে সে এনায়েতপুরের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিন্তু শরীরের তীব্র যন্ত্রণার চেয়েও তাকে বেশি কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে এক অজানা আতঙ্ক।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে অবুঝের মতো সে বারবার নার্স, চিকিৎসক আর উপস্থিত স্বজনদের কাছে জানতে চাইছে—"আমার আব্বু-আম্মু কোথায়? ওরা কেমন আছে?"
তামান্নার এই আকুল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সাহস বা ভাষা অবশ হয়ে গেছে উপস্থিত সবার। চোখের জল লুকিয়ে স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলছেন, "তোর বাবা-মা অন্য ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন, ভালো আছেন।"
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তামান্না শুধু শারীরিকভাবেই আঘাতপ্রাপ্ত হয়নি, সে তীব্র মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে বাবা-মায়ের মৃত্যুর নির্মম সত্যটি তাকে জানালে সে তা সহ্য করতে পারবে না, এমনকি তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হতে পারে। তাই এক বুক পাথর চেপে স্বজনরা কিশোরী তামান্নার সামনে হাসিমুখে মিথ্যা বলে যাচ্ছেন। কিন্তু এই সান্ত্বনার আড়ালে লুকিয়ে থাকা মহাসমুদ্রসম কষ্টটা কতক্ষণ চেপে রাখা যাবে, তা কেউই জানে না।
যে বয়সে তামান্নার বইখাতা হাতে স্কুলে যাওয়ার কথা, বন্ধুদের সাথে হাসিমুখে আড্ডা দেওয়ার কথা, সেই বয়সে এসে সে হারিয়ে ফেলল তার পুরো পৃথিবীটাকে। বাবা-মায়ের স্নেহের ছায়া ছাড়া এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে একটি কিশোরী মেয়ে কীভাবে একা লড়াই করবে, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন প্রতিবেশীরা।
তামান্নার এই অপূরণীয় ক্ষতি কোনো কিছু দিয়েই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে এই কঠিন সময়ে স্থানীয় প্রশাসন, সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের উচিত তার পাশে দাঁড়ানো। তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার ভবিষ্যৎ যেন কোনো অন্ধকারের অতলে হারিয়ে না যায়, সে দায়িত্ব এখন আমাদের সবার।

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
একটি হাসিখুশি পরিবার, কিছু রঙিন স্বপ্ন আর এক বুক আশা—সবকিছু মুহূর্তের মধ্যেই পিষে দিয়ে গেল একটি দ্রুতগামী বাস। শুক্রবার (৫ জুন, ২০২৬) সকালে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে তিনটি তাজা প্রাণ। ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে ১৬ বছর বয়সী স্কুলপড়ুয়া কিশোরী তামান্না খাতুনের চেনা পৃথিবীটাকে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে বেলকুচির মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও অটোভ্যানের মধ্যে মুখোমুখি ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তামান্নার বাবা মোতালেব সরকার (৪০), মা ফজিলা খাতুন (৩৫) এবং অটোভ্যানচালক নুরু (৪৫)।
যাঁরা কিছুক্ষণ আগেও একে অপরের হাত ধরে পথ চলছিলেন, এক পলকের অসাবধানতা কিংবা নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে তাঁরা এখন চিরতরে শান্ত।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হয়েছে মোতালেব-ফজিলা দম্পতির একমাত্র মেয়ে তামান্না খাতুন (১৬)। বর্তমানে সে এনায়েতপুরের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিন্তু শরীরের তীব্র যন্ত্রণার চেয়েও তাকে বেশি কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে এক অজানা আতঙ্ক।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে অবুঝের মতো সে বারবার নার্স, চিকিৎসক আর উপস্থিত স্বজনদের কাছে জানতে চাইছে—"আমার আব্বু-আম্মু কোথায়? ওরা কেমন আছে?"
তামান্নার এই আকুল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সাহস বা ভাষা অবশ হয়ে গেছে উপস্থিত সবার। চোখের জল লুকিয়ে স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলছেন, "তোর বাবা-মা অন্য ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন, ভালো আছেন।"
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তামান্না শুধু শারীরিকভাবেই আঘাতপ্রাপ্ত হয়নি, সে তীব্র মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে বাবা-মায়ের মৃত্যুর নির্মম সত্যটি তাকে জানালে সে তা সহ্য করতে পারবে না, এমনকি তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হতে পারে। তাই এক বুক পাথর চেপে স্বজনরা কিশোরী তামান্নার সামনে হাসিমুখে মিথ্যা বলে যাচ্ছেন। কিন্তু এই সান্ত্বনার আড়ালে লুকিয়ে থাকা মহাসমুদ্রসম কষ্টটা কতক্ষণ চেপে রাখা যাবে, তা কেউই জানে না।
যে বয়সে তামান্নার বইখাতা হাতে স্কুলে যাওয়ার কথা, বন্ধুদের সাথে হাসিমুখে আড্ডা দেওয়ার কথা, সেই বয়সে এসে সে হারিয়ে ফেলল তার পুরো পৃথিবীটাকে। বাবা-মায়ের স্নেহের ছায়া ছাড়া এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে একটি কিশোরী মেয়ে কীভাবে একা লড়াই করবে, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন প্রতিবেশীরা।
তামান্নার এই অপূরণীয় ক্ষতি কোনো কিছু দিয়েই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে এই কঠিন সময়ে স্থানীয় প্রশাসন, সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের উচিত তার পাশে দাঁড়ানো। তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার ভবিষ্যৎ যেন কোনো অন্ধকারের অতলে হারিয়ে না যায়, সে দায়িত্ব এখন আমাদের সবার।

আপনার মতামত লিখুন