পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের চাপ ও টানা বৃষ্টির কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যমুনা সেতুর পূর্বপাড়ে করটিয়া থেকে সেতু এলাকা পর্যন্ত দীর্ঘ যানবাহনের সারিতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। তবে যমুনা সেতু পার হওয়ার পর সিরাজগঞ্জ অংশে যান চলাচল তুলনামূলক স্বাভাবিক রয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর পশ্চিমপাড়, সায়দাবাদ, কড্ডার মোড়, নলকা ও হাটিকুমরুল গোলচত্বরে যানবাহনের চাপ থাকলেও বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা যায়নি। উত্তরাঞ্চলগামী বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল ধীরগতিতে হলেও চলাচল করছে।
হাটিকুমরুল এলাকায় ট্রাকচালক আব্দুর রউফ বলেন, পূর্বপাড়ে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে। তবে যমুনা সেতু পার হওয়ার পর সিরাজগঞ্জ অংশে এসে স্বস্তি মিলেছে।
ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরা গার্মেন্টসকর্মী শরীফুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিরাজগঞ্জ অংশে যানজট কম থাকার খবর দেখেছিলাম। সেতু পার হয়ে এসে সেটির সত্যতাও পেয়েছি।
অন্যদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানজটের কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পর্যন্ত অনেক জায়গায় যানবাহন দীর্ঘ সময় স্থির হয়ে থাকে।
সিয়াম পরিবহনের চালক সুমন জানান, যানজটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে হচ্ছে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে।
গাজীপুর থেকে নাটোরগামী গার্মেন্টসকর্মী সুমন খান বলেন, বৃষ্টি, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও সড়কের সীমাবদ্ধতার কারণে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে।
বগুড়াগামী যাত্রী সাগর শেখ বলেন, রাতে গাজীপুর থেকে রওনা দিলেও খুব ধীরগতিতে এগোতে হয়েছে। এখনো পুরো পথ স্বাভাবিক হয়নি।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম জানান, পূর্বপাড়ে একটি যানবাহন বিকল হয়ে পড়ায় যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে পশ্চিমাঞ্চলে চারলেন সড়ক ও হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ চালু থাকায় চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, সিরাজগঞ্জ অংশে যান চলাচল এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, ঈদকে ঘিরে উত্তরাঞ্চলমুখী যানবাহনের চাপ বেড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে।
উল্লেখ্য, যমুনা সেতু দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ২২ জেলার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগের মাধ্যম। ঈদ সামনে রেখে যানবাহনের চাপ বাড়লেও সিরাজগঞ্জ অংশে এখনো স্বস্তিদায়ক পরিবেশ বজায় রয়েছে।

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের চাপ ও টানা বৃষ্টির কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যমুনা সেতুর পূর্বপাড়ে করটিয়া থেকে সেতু এলাকা পর্যন্ত দীর্ঘ যানবাহনের সারিতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। তবে যমুনা সেতু পার হওয়ার পর সিরাজগঞ্জ অংশে যান চলাচল তুলনামূলক স্বাভাবিক রয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর পশ্চিমপাড়, সায়দাবাদ, কড্ডার মোড়, নলকা ও হাটিকুমরুল গোলচত্বরে যানবাহনের চাপ থাকলেও বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা যায়নি। উত্তরাঞ্চলগামী বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল ধীরগতিতে হলেও চলাচল করছে।
হাটিকুমরুল এলাকায় ট্রাকচালক আব্দুর রউফ বলেন, পূর্বপাড়ে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে। তবে যমুনা সেতু পার হওয়ার পর সিরাজগঞ্জ অংশে এসে স্বস্তি মিলেছে।
ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরা গার্মেন্টসকর্মী শরীফুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিরাজগঞ্জ অংশে যানজট কম থাকার খবর দেখেছিলাম। সেতু পার হয়ে এসে সেটির সত্যতাও পেয়েছি।
অন্যদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানজটের কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পর্যন্ত অনেক জায়গায় যানবাহন দীর্ঘ সময় স্থির হয়ে থাকে।
সিয়াম পরিবহনের চালক সুমন জানান, যানজটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে হচ্ছে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে।
গাজীপুর থেকে নাটোরগামী গার্মেন্টসকর্মী সুমন খান বলেন, বৃষ্টি, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও সড়কের সীমাবদ্ধতার কারণে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে।
বগুড়াগামী যাত্রী সাগর শেখ বলেন, রাতে গাজীপুর থেকে রওনা দিলেও খুব ধীরগতিতে এগোতে হয়েছে। এখনো পুরো পথ স্বাভাবিক হয়নি।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম জানান, পূর্বপাড়ে একটি যানবাহন বিকল হয়ে পড়ায় যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে পশ্চিমাঞ্চলে চারলেন সড়ক ও হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ চালু থাকায় চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, সিরাজগঞ্জ অংশে যান চলাচল এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, ঈদকে ঘিরে উত্তরাঞ্চলমুখী যানবাহনের চাপ বেড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে।
উল্লেখ্য, যমুনা সেতু দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ২২ জেলার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগের মাধ্যম। ঈদ সামনে রেখে যানবাহনের চাপ বাড়লেও সিরাজগঞ্জ অংশে এখনো স্বস্তিদায়ক পরিবেশ বজায় রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন