দৈনিক লাল বার্তা

তাড়াশে টুংটাং শব্দে মুখর কামারশালা



তাড়াশে টুংটাং শব্দে মুখর কামারশালা

বাঁশ, পাটকাঠি আর ছন দিয়ে তৈরি ছোট্ট কুঁড়ে ঘর। বাইরে থেকে সাধারণ চোখে তেমন কিছু মনে না হলেও ভেতর থেকে হাতুড়ি আর গরম লোহা পেটানোর টুংটাং ভেসে আসা শব্দই বলে দিচ্ছে, এটি একটি কামারশালা। সেই শব্দ যেন জানান দিচ্ছে— আর মাত্র তিনদিন পরে, আসছে পবিত্র ঈদুল আজহা।

বছরের বেশির ভাগ সময় নিরব পড়ে থাকা তাড়াশ উপজেলার কামারশালাগুলোতে এখন ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ছুরি, দা, বটি ও চাপাতি তৈরির কাজ। তবে নতুন সরঞ্জাম তৈরির চেয়ে পুরোনো সরঞ্জাম মেরামত ও শান দেওয়ার কাজই বেশি করছেন কামাররা।

কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে কিংবা পুরোনোগুলো ধারালো করতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন ক্রেতারা।

উপজেলার সদর, বিনসাড়া, বারুহাস, বস্তুল, গুল্টা, নওগাঁ , রানীরহাট ও কাটাগাড়ি এলাকার বিভিন্ন কামারশালায় গিয়ে দেখা যায়, আগুনে লোহা গরম করে হাতুড়ির আঘাতে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ধারালো সরঞ্জাম। একদিকে নতুন ছুরি-বটি তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে পুরোনো দা-ছুরি শান দিতে আসছেন সাধারণ মানুষ।

কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আকার ও মানভেদে ছুরি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। দা ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা, বটি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, পশু জবাইয়ের ছুরি ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং চাপাতি ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পুরোনো ছুরি বা দা শান দিতে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে কাজের ধরন অনুযায়ী ১৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

নওগাঁ বাজারের কামার প্রশান্ত বলেন, “বছরের অন্য সময়ের তুলনায় কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করেই সবচেয়ে বেশি কাজের চাপ থাকে। কয়েকদিন ধরে রাত জেগে কাজ করছি। কিন্তু লোহা ও কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও অনেক বেড়েছে। এখন নতুন করে আর কাজ নিচ্ছি না, মানুষের আগের অর্ডার শেষ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।”

কামার রামপদ কর্মকার বলেন, “ঈদের আগে কাজের অনেক চাপ থাকে। মানুষ নতুন ছুরি-বটি কিনছে, আবার পুরোনোগুলোও শান দিচ্ছে। এই সময়টাতে যা আয় হয়, তা দিয়েই বছরের অনেকটা সময় চলে। আধুনিক যন্ত্রপাতির ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে এই শিল্প বিলীনের পথে। নতুন প্রজন্মও আর এই কাজ শিখতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। আমরা অনেকেই এখন কৃষি কাজের সাথে জড়িত।

কামারশালায় আসা জাহিদুল ইসলাম জানান, তিনি পাঁচটি ছুরি ও দুটি চাপাতি মেরামত ও ধারালো করতে এনেছেন। তিনি বলেন, “কোরবানির দিন আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে পশু কোরবানি দেওয়া হবে। সেজন্য এগুলো ঠিকঠাক করে নিচ্ছি। বছরে এই একটা সময়েই এসবের কথা মনে পড়ে। দোকানে এখন এত ভিড় যে ঈদের আগের দিন এসে নিতে বলেছে।

আরেক ক্রেতা আতিকুর রহমান বলেন, “আমি নতুন করে দুটি ছুরি ও একটি বটি কিনতে এসেছি। বর্তমান বাজারদর ও শ্রমের তুলনায় দাম ঠিকই আছে।

ক্রেতাদের ভাষ্য, কোরবানির সময় ভালো মানের ধারালো সরঞ্জামের চাহিদা বেশি থাকে। তাই তারা স্থানীয় কামারদের হাতে তৈরি সরঞ্জামের ওপরই বেশি আস্থা রাখছেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক লাল বার্তা

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬


তাড়াশে টুংটাং শব্দে মুখর কামারশালা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

featured Image




বাঁশ, পাটকাঠি আর ছন দিয়ে তৈরি ছোট্ট কুঁড়ে ঘর। বাইরে থেকে সাধারণ চোখে তেমন কিছু মনে না হলেও ভেতর থেকে হাতুড়ি আর গরম লোহা পেটানোর টুংটাং ভেসে আসা শব্দই বলে দিচ্ছে, এটি একটি কামারশালা। সেই শব্দ যেন জানান দিচ্ছে— আর মাত্র তিনদিন পরে, আসছে পবিত্র ঈদুল আজহা।


বছরের বেশির ভাগ সময় নিরব পড়ে থাকা তাড়াশ উপজেলার কামারশালাগুলোতে এখন ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ছুরি, দা, বটি ও চাপাতি তৈরির কাজ। তবে নতুন সরঞ্জাম তৈরির চেয়ে পুরোনো সরঞ্জাম মেরামত ও শান দেওয়ার কাজই বেশি করছেন কামাররা।


কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে কিংবা পুরোনোগুলো ধারালো করতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন ক্রেতারা।


উপজেলার সদর, বিনসাড়া, বারুহাস, বস্তুল, গুল্টা, নওগাঁ , রানীরহাট ও কাটাগাড়ি এলাকার বিভিন্ন কামারশালায় গিয়ে দেখা যায়, আগুনে লোহা গরম করে হাতুড়ির আঘাতে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ধারালো সরঞ্জাম। একদিকে নতুন ছুরি-বটি তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে পুরোনো দা-ছুরি শান দিতে আসছেন সাধারণ মানুষ।


কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আকার ও মানভেদে ছুরি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। দা ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা, বটি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, পশু জবাইয়ের ছুরি ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং চাপাতি ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পুরোনো ছুরি বা দা শান দিতে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে কাজের ধরন অনুযায়ী ১৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।


নওগাঁ বাজারের কামার প্রশান্ত বলেন, “বছরের অন্য সময়ের তুলনায় কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করেই সবচেয়ে বেশি কাজের চাপ থাকে। কয়েকদিন ধরে রাত জেগে কাজ করছি। কিন্তু লোহা ও কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও অনেক বেড়েছে। এখন নতুন করে আর কাজ নিচ্ছি না, মানুষের আগের অর্ডার শেষ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।”


কামার রামপদ কর্মকার বলেন, “ঈদের আগে কাজের অনেক চাপ থাকে। মানুষ নতুন ছুরি-বটি কিনছে, আবার পুরোনোগুলোও শান দিচ্ছে। এই সময়টাতে যা আয় হয়, তা দিয়েই বছরের অনেকটা সময় চলে। আধুনিক যন্ত্রপাতির ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে এই শিল্প বিলীনের পথে। নতুন প্রজন্মও আর এই কাজ শিখতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। আমরা অনেকেই এখন কৃষি কাজের সাথে জড়িত।


কামারশালায় আসা জাহিদুল ইসলাম জানান, তিনি পাঁচটি ছুরি ও দুটি চাপাতি মেরামত ও ধারালো করতে এনেছেন। তিনি বলেন, “কোরবানির দিন আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে পশু কোরবানি দেওয়া হবে। সেজন্য এগুলো ঠিকঠাক করে নিচ্ছি। বছরে এই একটা সময়েই এসবের কথা মনে পড়ে। দোকানে এখন এত ভিড় যে ঈদের আগের দিন এসে নিতে বলেছে।


আরেক ক্রেতা আতিকুর রহমান বলেন, “আমি নতুন করে দুটি ছুরি ও একটি বটি কিনতে এসেছি। বর্তমান বাজারদর ও শ্রমের তুলনায় দাম ঠিকই আছে।


ক্রেতাদের ভাষ্য, কোরবানির সময় ভালো মানের ধারালো সরঞ্জামের চাহিদা বেশি থাকে। তাই তারা স্থানীয় কামারদের হাতে তৈরি সরঞ্জামের ওপরই বেশি আস্থা রাখছেন।


দৈনিক লাল বার্তা

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা