সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার হাট পাঙ্গাসি বাজার তার পশ্চিমে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে বেশ কয়েকটি বিশাল আকৃতির প্রাচীন কড়ই গাছ। যে গাছগুলো বছরের পর বছর ধরে পথিক ও স্থানীয়দের তীব্র রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচিয়ে জীবনকে স্বস্তি দিয়েছে, আজ সেই গাছের মরা ডালপালাই স্থানীয় মানুষের জন্য একেকটি ‘মরণফাঁদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে মরা ডাল ভেঙে পড়ে প্রাণহানির মত বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
শতবর্ষী এই কড়ই গাছগুলো হাট পাঙ্গাসি বাজারের একটি অন্যতম পরিচিত কেন্দ্রবিন্দু। খেলার মাঠ সংলগ্ন বাজারে একটি কড়ই গাছ দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিদিন এই গাছের নিচে বসেন শত শত হকার, ভ্যানচালক ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে গাছটির বেশ কিছু বড় বড় ডালপালা শুকিয়ে মরে গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সামান্য বাতাস বা বৃষ্টি হলেই ওপর থেকে ছোট-বড় মরা ডাল ভেঙ্গে পড়তে থাকে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন পথচারী ওপর থেকে ডাল পড়ে সামান্য আহতও হয়েছেন। কিন্তু এখনো কোনো বড় ডাল ভেঙে না পড়ায় বড় কোনো বিপর্যয় ঘটেনি—যা কেবলই ভাগ্য বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বাজার থেকে পশ্চিম দিকে গেলেই রাস্তার পাশে দেখতে পাবেন আরো পাঁচ থেকে ছয়টি গাছ। সেই গাছগুলোরও ভয়াবহ অবস্থা
গত কয়েকদিন আগে ঝড়ের কবলে পড়ে বৈকন্ঠপুর এলাকায় একটি বিশাল আকৃতির বটগাছ ভেঙ্গে পড়ে। এই গাছটিও ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তবে রাতের বেলায় ভেঙ্গে পড়ায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এমনিভাবে এই বিশাল আকৃতির কড়ই গাছগুলোও ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাজারের পাশে আল আমিন নামের একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এই গাছগুলো আমাদের কত উপকার করেছে তা বলে শেষ করা যাবে না। গরমের দিনে এর ছায়ায় মানুষ শান্তি পায়। কিন্তু এখন এর নিচ দিয়ে যাতায়াত করতে ভয় লাগে। ওপরের মরা ডালগুলো শুকিয়ে একেবারে ঝরঝরে হয়ে গেছে, কখন কার মাথার ওপর পড়ে ঠিক নেই।" গাছের নিচে রাস্তার পাশে থাকা কয়েকটি পরিবার আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন। তাদের একটা কথাই কখন যে ডালপালা ভেঙ্গে পড়ে বাড়ির উপর।
গ্রাম পাঙ্গাসী বজারের ভ্যানচালক রহমান জানান, হাটের দিনে এই গাছের নিচে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। যদি কোনো বড় মরা ডাল হাটের সময় ভেঙে পড়ে, তবে বহু মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত এই মরা ডালগুলো কেটে ফেলা দরকার।
রায়গঞ্জ উপজেলা দুর্নীতি বিরোধী প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক খান
যুবায়ের বলেন,পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গাছ বাঁচিয়ে রাখা জরুরি হলেও, জননিরাপত্তার স্বার্থে মরা ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশ ছেঁটে ফেলা অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন পুরো গাছটি না কেটে, শুধুমাত্র যে ডালগুলো শুকিয়ে গেছে এবং ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত কেটে ফেলা উচিত।
সামাজিক বন বিভাগ রায়গঞ্জ রেঞ্জের কর্মকর্তা দেওয়ান শহীদুজ্জামান বলেন, গাছগুলো সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের। অন্যদিকে রাস্তাটি সড়ক ও জনপদের। দুই বিভাগের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। তবে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও বাজার কমিটির দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন হাট পাঙ্গাসিবাসী। একটি বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই প্রশাসন মরা ডালগুলো অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার হাট পাঙ্গাসি বাজার তার পশ্চিমে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে বেশ কয়েকটি বিশাল আকৃতির প্রাচীন কড়ই গাছ। যে গাছগুলো বছরের পর বছর ধরে পথিক ও স্থানীয়দের তীব্র রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচিয়ে জীবনকে স্বস্তি দিয়েছে, আজ সেই গাছের মরা ডালপালাই স্থানীয় মানুষের জন্য একেকটি ‘মরণফাঁদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে মরা ডাল ভেঙে পড়ে প্রাণহানির মত বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
শতবর্ষী এই কড়ই গাছগুলো হাট পাঙ্গাসি বাজারের একটি অন্যতম পরিচিত কেন্দ্রবিন্দু। খেলার মাঠ সংলগ্ন বাজারে একটি কড়ই গাছ দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিদিন এই গাছের নিচে বসেন শত শত হকার, ভ্যানচালক ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে গাছটির বেশ কিছু বড় বড় ডালপালা শুকিয়ে মরে গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সামান্য বাতাস বা বৃষ্টি হলেই ওপর থেকে ছোট-বড় মরা ডাল ভেঙ্গে পড়তে থাকে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন পথচারী ওপর থেকে ডাল পড়ে সামান্য আহতও হয়েছেন। কিন্তু এখনো কোনো বড় ডাল ভেঙে না পড়ায় বড় কোনো বিপর্যয় ঘটেনি—যা কেবলই ভাগ্য বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বাজার থেকে পশ্চিম দিকে গেলেই রাস্তার পাশে দেখতে পাবেন আরো পাঁচ থেকে ছয়টি গাছ। সেই গাছগুলোরও ভয়াবহ অবস্থা
গত কয়েকদিন আগে ঝড়ের কবলে পড়ে বৈকন্ঠপুর এলাকায় একটি বিশাল আকৃতির বটগাছ ভেঙ্গে পড়ে। এই গাছটিও ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তবে রাতের বেলায় ভেঙ্গে পড়ায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এমনিভাবে এই বিশাল আকৃতির কড়ই গাছগুলোও ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাজারের পাশে আল আমিন নামের একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এই গাছগুলো আমাদের কত উপকার করেছে তা বলে শেষ করা যাবে না। গরমের দিনে এর ছায়ায় মানুষ শান্তি পায়। কিন্তু এখন এর নিচ দিয়ে যাতায়াত করতে ভয় লাগে। ওপরের মরা ডালগুলো শুকিয়ে একেবারে ঝরঝরে হয়ে গেছে, কখন কার মাথার ওপর পড়ে ঠিক নেই।" গাছের নিচে রাস্তার পাশে থাকা কয়েকটি পরিবার আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন। তাদের একটা কথাই কখন যে ডালপালা ভেঙ্গে পড়ে বাড়ির উপর।
গ্রাম পাঙ্গাসী বজারের ভ্যানচালক রহমান জানান, হাটের দিনে এই গাছের নিচে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। যদি কোনো বড় মরা ডাল হাটের সময় ভেঙে পড়ে, তবে বহু মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত এই মরা ডালগুলো কেটে ফেলা দরকার।
রায়গঞ্জ উপজেলা দুর্নীতি বিরোধী প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক খান
যুবায়ের বলেন,পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গাছ বাঁচিয়ে রাখা জরুরি হলেও, জননিরাপত্তার স্বার্থে মরা ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশ ছেঁটে ফেলা অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন পুরো গাছটি না কেটে, শুধুমাত্র যে ডালগুলো শুকিয়ে গেছে এবং ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত কেটে ফেলা উচিত।
সামাজিক বন বিভাগ রায়গঞ্জ রেঞ্জের কর্মকর্তা দেওয়ান শহীদুজ্জামান বলেন, গাছগুলো সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের। অন্যদিকে রাস্তাটি সড়ক ও জনপদের। দুই বিভাগের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। তবে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও বাজার কমিটির দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন হাট পাঙ্গাসিবাসী। একটি বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই প্রশাসন মরা ডালগুলো অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

আপনার মতামত লিখুন