দৈনিক লাল বার্তা

তাড়াশে ভদ্রবতী খালের মাটি কেটে বিক্রি করছেন প্রভাবশালী নেতা সাহিক



তাড়াশে ভদ্রবতী খালের মাটি কেটে বিক্রি করছেন প্রভাবশালী নেতা সাহিক

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহাসিক ভদ্রবতী খালের মাটি কেটে অবৈধভাবে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা সাহিকের বিরুদ্ধে। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দিন-রাত বেপরোয়াভাবে খালের মাটি কেটে ড্রাম ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। এর ফলে খালের স্বাভাবিক নাব্যতা হারানোর পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে আশেপাশের ঘর বাড়ি গুলো ও গ্রামীণ রাস্তাঘাট।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারুহাস গ্রামের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ভদ্রবতী খালের মাটি কাটার জন্য কোনো প্রকার সরকারি অনুমতি নেওয়া হয়নি। স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা সাহিক নিজের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে শ্রমিক ও ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে খালের তলদেশ ও পাড় থেকে শত শত গাড়ি মাটি কেটে বিক্রি করে দিচ্ছেন।

ইতিমধ্যেই খালের বিশাল একটি অংশের মাটি গায়েব হয়ে গেছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ বাধা দিতে গেলে তাদের বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ভারী ড্রাম ট্রাকগুলোর অবাধ চলাচলের কারণে বারুহাস গ্রামের গ্রামীণ সড়কগুলো ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালির কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবন, আর সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাগুলো কাদা-পানিতে একাকার হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

এছাড়া, খালের পাড় ঘেঁষে মাটি কাটার কারণে বর্ষা মৌসুমে আশেপাশের শত শত বিঘা ফসলি জমি খালের পেটে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বারুহাস গ্রামের একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভদ্রবতী খালটি আমাদের এলাকার কৃষি কাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাহিক নেতা হওয়ার সুবাদে কারও কথা তোয়াক্কা করছেন না। সরকারি খালের মাটি এভাবে বিক্রি করে তিনি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন, আর ক্ষতি হচ্ছে আমাদের।"

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, দ্রুত এই অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ না হলে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। বারুহাস গ্রামবাসী সরকারি এই সম্পদ রক্ষা এবং প্রভাবশালী সাহিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক লাল বার্তা

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬


তাড়াশে ভদ্রবতী খালের মাটি কেটে বিক্রি করছেন প্রভাবশালী নেতা সাহিক

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image




সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহাসিক ভদ্রবতী খালের মাটি কেটে অবৈধভাবে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা সাহিকের বিরুদ্ধে। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দিন-রাত বেপরোয়াভাবে খালের মাটি কেটে ড্রাম ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। এর ফলে খালের স্বাভাবিক নাব্যতা হারানোর পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে আশেপাশের ঘর বাড়ি গুলো ও গ্রামীণ রাস্তাঘাট।


স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারুহাস গ্রামের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ভদ্রবতী খালের মাটি কাটার জন্য কোনো প্রকার সরকারি অনুমতি নেওয়া হয়নি। স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা সাহিক নিজের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে শ্রমিক ও ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে খালের তলদেশ ও পাড় থেকে শত শত গাড়ি মাটি কেটে বিক্রি করে দিচ্ছেন।


ইতিমধ্যেই খালের বিশাল একটি অংশের মাটি গায়েব হয়ে গেছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ বাধা দিতে গেলে তাদের বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।


মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ভারী ড্রাম ট্রাকগুলোর অবাধ চলাচলের কারণে বারুহাস গ্রামের গ্রামীণ সড়কগুলো ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালির কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবন, আর সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাগুলো কাদা-পানিতে একাকার হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।


এছাড়া, খালের পাড় ঘেঁষে মাটি কাটার কারণে বর্ষা মৌসুমে আশেপাশের শত শত বিঘা ফসলি জমি খালের পেটে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বারুহাস গ্রামের একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভদ্রবতী খালটি আমাদের এলাকার কৃষি কাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাহিক নেতা হওয়ার সুবাদে কারও কথা তোয়াক্কা করছেন না। সরকারি খালের মাটি এভাবে বিক্রি করে তিনি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন, আর ক্ষতি হচ্ছে আমাদের।"


এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, দ্রুত এই অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ না হলে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। বারুহাস গ্রামবাসী সরকারি এই সম্পদ রক্ষা এবং প্রভাবশালী সাহিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


দৈনিক লাল বার্তা

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা