সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের বাঐখোলা গ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চরম অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যাওয়া এই রাস্তাটি এখন গ্রামবাসীর জন্য এক চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া না লাগায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
শুক্রবার সকালে সরেজমিনে বাঐখোলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়,আব্দুর রাকিব খানের বাড়ি হতে কবরস্থান পর্যন্ত এই কাঁচা রাস্তাটির অধিকাংশ জায়গায় বড় বড় গর্তে ভরা। রাস্তার দুই পাশে পুকুর থাকায় তা ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে । বর্ষা মৌসুম তো দূরের কথা, সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তাটি পিচ্ছিল কাদা আর জমে থাকা পানির কারণে রাস্তাটি দিয়ে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাই দায় হয়ে পড়েছে।
উক্ত আব্দুর রাকিব খান বলেন, বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটির এই দশা হলেও এটি মেরামতের জন্য কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিশু, বৃদ্ধ এবং রোগীরা। ভ্যান চালক রাকেশ খান বলেন, কাদা মাড়িয়ে জুতো-জামা নষ্ট করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। অনেক সময় পিচ্ছিল রাস্তায় পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয় কোমলমতি শিশুরা। ফলে বৃষ্টির দিনে অবহেলিত এই এলাকার শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার অনেক কমে যায়।
গ্রামের হামিদুল ইসলাম খান বলেন, গ্রামে কোনো জরুরি রোগী বা গর্ভবতী নারী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কোনো ভ্যান বা অ্যাম্বুলেন্স গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। বাধ্য হয়ে রোগীকে খাটিয়ায় বা কোলে করে মূল সড়ক পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং কষ্টদায়ক।
বাঐখোলা গ্রামের বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা জানান, ভোটের সময় এলে জনপ্রতিনিধিরা রাস্তাটি পাকা করে দেওয়ার বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ভোট চলে গেলে আর কেউ খোঁজ নেন না। গ্রামের এক প্রবীণ বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন: "আমাদের এই বাঐখোলা গ্রামের রাস্তাটি যেন দেখার কেউ নেই। একটু বৃষ্টি হলেই আমরা একপ্রকার গৃহবন্দী হয়ে পড়ি। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে চায় না, বাজারে ফসল নিয়ে যাওয়া যায় না।রাস্তা খারাপ হওয়ার কারণে তারা তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য সহজে বাজারে নিতে পারছেন না।
চান্দাইকোনা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান খান বলেন, রাস্তাটি পাকা করনের জন্য উপজেলা পরিষদের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন হলেই গ্রামের জন্য দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে। রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, গ্রামের ভিতরে প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার এইচবিবি করা হয়েছে। অবশিষ্ট রাস্তাটিরও উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে।
চান্দাইকোনা ইউনিয়নের এই অবহেলিত বাঐখোলা গ্রামের মানুষের একটাই দাবি—আর কোনো মিথ্যা আশ্বাস নয়, টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে রাস্তাটি দ্রুত পাকাকরণ বা অন্তত ইট বিছিয়ে (এইচবিবি) চলাচলের উপযোগী করা হোক। স্থানীয় প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টিই কেবল পারে বাঐখোলা গ্রামের হাজারো মানুষের এই দীর্ঘদিনের জনভোগান্তি ও অবহেলার অবসান ঘটাতে।

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের বাঐখোলা গ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চরম অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যাওয়া এই রাস্তাটি এখন গ্রামবাসীর জন্য এক চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া না লাগায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
শুক্রবার সকালে সরেজমিনে বাঐখোলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়,আব্দুর রাকিব খানের বাড়ি হতে কবরস্থান পর্যন্ত এই কাঁচা রাস্তাটির অধিকাংশ জায়গায় বড় বড় গর্তে ভরা। রাস্তার দুই পাশে পুকুর থাকায় তা ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে । বর্ষা মৌসুম তো দূরের কথা, সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তাটি পিচ্ছিল কাদা আর জমে থাকা পানির কারণে রাস্তাটি দিয়ে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাই দায় হয়ে পড়েছে।
উক্ত আব্দুর রাকিব খান বলেন, বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটির এই দশা হলেও এটি মেরামতের জন্য কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিশু, বৃদ্ধ এবং রোগীরা। ভ্যান চালক রাকেশ খান বলেন, কাদা মাড়িয়ে জুতো-জামা নষ্ট করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। অনেক সময় পিচ্ছিল রাস্তায় পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয় কোমলমতি শিশুরা। ফলে বৃষ্টির দিনে অবহেলিত এই এলাকার শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার অনেক কমে যায়।
গ্রামের হামিদুল ইসলাম খান বলেন, গ্রামে কোনো জরুরি রোগী বা গর্ভবতী নারী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কোনো ভ্যান বা অ্যাম্বুলেন্স গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। বাধ্য হয়ে রোগীকে খাটিয়ায় বা কোলে করে মূল সড়ক পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং কষ্টদায়ক।
বাঐখোলা গ্রামের বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা জানান, ভোটের সময় এলে জনপ্রতিনিধিরা রাস্তাটি পাকা করে দেওয়ার বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ভোট চলে গেলে আর কেউ খোঁজ নেন না। গ্রামের এক প্রবীণ বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন: "আমাদের এই বাঐখোলা গ্রামের রাস্তাটি যেন দেখার কেউ নেই। একটু বৃষ্টি হলেই আমরা একপ্রকার গৃহবন্দী হয়ে পড়ি। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে চায় না, বাজারে ফসল নিয়ে যাওয়া যায় না।রাস্তা খারাপ হওয়ার কারণে তারা তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য সহজে বাজারে নিতে পারছেন না।
চান্দাইকোনা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান খান বলেন, রাস্তাটি পাকা করনের জন্য উপজেলা পরিষদের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন হলেই গ্রামের জন্য দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে। রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, গ্রামের ভিতরে প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার এইচবিবি করা হয়েছে। অবশিষ্ট রাস্তাটিরও উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে।
চান্দাইকোনা ইউনিয়নের এই অবহেলিত বাঐখোলা গ্রামের মানুষের একটাই দাবি—আর কোনো মিথ্যা আশ্বাস নয়, টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে রাস্তাটি দ্রুত পাকাকরণ বা অন্তত ইট বিছিয়ে (এইচবিবি) চলাচলের উপযোগী করা হোক। স্থানীয় প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টিই কেবল পারে বাঐখোলা গ্রামের হাজারো মানুষের এই দীর্ঘদিনের জনভোগান্তি ও অবহেলার অবসান ঘটাতে।

আপনার মতামত লিখুন