ফরিদপুর জেলায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা ১২টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিস্তারিত পর্যালোচনার পাশাপাশি আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং শহরের দীর্ঘস্থায়ী যানজট নিরসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নীতিনির্ধারণী আলোচনা হয়।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি রক্ষা
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। সভায় যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়—
ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপ চিহ্নিতকরণ ও নজরদারি:
ঝুঁকিপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলো চিহ্নিত করে সেখানে পুলিশ ও আনসার সদস্যের পর্যাপ্ত উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
প্রযুক্তির ব্যবহার:
প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সার্বক্ষণিক মনিটরিং।
গুজব ও অপপ্রচার রোধ: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক প্রচারণা ও গুজব প্রতিরোধে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন।
মাদক ও অপরাধ দমন
মাদকের বিস্তার রোধে জেলা পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাকে নিয়মিত যৌথ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা কঠোর হাতে দমনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও যানজট নিরসন :
শহরের যানজট পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে ট্রাফিক পুলিশিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করার তাগিদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি জননিরাপত্তা রক্ষার্থে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট সব সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
মা ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞা:
আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত চলমান মা ইলিশ ধরা, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুস্মিতা সাহা, জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামছুল আজম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ এসএম আব্দুল হালিম, সরকারি ইয়াছিন কলেজের অধ্যক্ষ ড. নিখিল রঞ্জন বিশ্বাস, সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাতীন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিষ্ণুপদ ঘোষাল, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. হাফিজুর রহমান, সরকারি কৌঁসুলি মো. আশরাফ আলী, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শিরিন আক্তার, জেলা কারাগারের সুপার শওকত হোসেন মিয়া, জেলা আনসার ও ভিডিপির কমান্ডার চন্দন দেবনাথ এবং বিআরটিএর সহকারী পরিচালক পলাশ খীসা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন, যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এ এফ এম কাইয়ুম জঙ্গী, বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
সভা শেষে জেলার সকল ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে উৎসবগুলো সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করা হয়।

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬
ফরিদপুর জেলায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা ১২টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিস্তারিত পর্যালোচনার পাশাপাশি আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং শহরের দীর্ঘস্থায়ী যানজট নিরসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নীতিনির্ধারণী আলোচনা হয়।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি রক্ষা
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। সভায় যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়—
ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপ চিহ্নিতকরণ ও নজরদারি:
ঝুঁকিপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলো চিহ্নিত করে সেখানে পুলিশ ও আনসার সদস্যের পর্যাপ্ত উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
প্রযুক্তির ব্যবহার:
প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সার্বক্ষণিক মনিটরিং।
গুজব ও অপপ্রচার রোধ: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক প্রচারণা ও গুজব প্রতিরোধে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন।
মাদক ও অপরাধ দমন
মাদকের বিস্তার রোধে জেলা পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাকে নিয়মিত যৌথ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা কঠোর হাতে দমনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও যানজট নিরসন :
শহরের যানজট পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে ট্রাফিক পুলিশিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করার তাগিদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি জননিরাপত্তা রক্ষার্থে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট সব সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
মা ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞা:
আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত চলমান মা ইলিশ ধরা, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুস্মিতা সাহা, জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামছুল আজম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ এসএম আব্দুল হালিম, সরকারি ইয়াছিন কলেজের অধ্যক্ষ ড. নিখিল রঞ্জন বিশ্বাস, সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাতীন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিষ্ণুপদ ঘোষাল, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. হাফিজুর রহমান, সরকারি কৌঁসুলি মো. আশরাফ আলী, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শিরিন আক্তার, জেলা কারাগারের সুপার শওকত হোসেন মিয়া, জেলা আনসার ও ভিডিপির কমান্ডার চন্দন দেবনাথ এবং বিআরটিএর সহকারী পরিচালক পলাশ খীসা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন, যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এ এফ এম কাইয়ুম জঙ্গী, বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
সভা শেষে জেলার সকল ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে উৎসবগুলো সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন