গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কামালেরপাড়া ইউনিয়নের বাঙ্গাবাড়ি, গড়গড়িয়া ও কিংকরপুর এলাকার লোকালয় ও ফসলি জমির বুক চিরে গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির চুল্লি।
তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে আইনি নোটিশ জারির তিন মাস পেরিয়ে গেলেও অদৃশ্য এক শক্তির ইশারায় চুল্লিগুলো বন্ধ হয়নি, বরং আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মুখে পড়লেও প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এই রহস্যজনক নীরবতা এক গভীর আঁতাত বা গোপন চুক্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে অনেকেই জানান।
কাঠ পোড়ানো চুল্লীর ছবি, ভিডিও স্থানীয়, জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় একাধিক বার সংবাদ প্রচার হলেও প্রশাসন শুধুমাত্র কাঁঠালতলীর একটি কারখানা ভেঙেই দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালন করে। অথচ তার পাশেই গড়গড়িয়া গ্রামে শতাধিক চুল্লীতে এবং বাঙ্গাবাড়ি এলাকায় শতাধিক চুল্লীতে রাতদিন একাকার করে কাঠ পুড়ে কয়লা তৈরি করছে।
অনেকেই জানান, কামালেরপাড়ার এই অঞ্চলে অবৈধ কয়লা তৈরির ইতিহাস বেশ পুরোনো। এর আগেও স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে কিছু চুল্লির ইট খুলে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হলো, প্রশাসনের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ফিরে যাওয়ার দু’-তিন দিনের মধ্যেই চুল্লী তৈরি করে পূর্বের ন্যয় রহস্যজনক ভাবে সক্রিয় হয়ে উঠে কাঠ পুড়ে কয়লা তৈরির প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযানে নামমাত্র কিছু ইট সরিয়ে নেওয়া হলেও চুল্লি মালিকদের বিরুদ্ধে কোনো আর্থিক জরিমানা বা কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। এই নামকা ওয়াস্তে ভাঙনের সুযোগ নিয়ে কয়লা ব্যবসায়ীরা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং নতুন উদ্যমে গাছপালা কেটে চুল্লিতে পোড়াতে শুরু করে।
ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের অবাধ নিধনে কামালেরপাড়াসহ আশেপাশের এলাকার সবুজ প্রকৃতি আজ হুমকির মুখে । চুল্লিগুলো থেকে দিনরাত যে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া নির্গত হয়, তা পুরো এলাকার আকাশ আচ্ছন্ন করে রাখে।
ফলে তীব্র শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি, অ্যাজমা এবং চোখের নানাবিধ সমস্যায় ভুগছেন শিশু ও বয়স্করা।
চুল্লির বিষাক্ত ধোঁয়া ও গ্যাসে খেতের ধানের শীষ পুড়ে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে, অকালে ঝরে পড়ছে ফলদ গাছের আম, কাঁঠালসহ নানা ফল। পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে মাটির উর্বরতাশক্তি।
চুল্লী বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের গত ১৭ জুন -২০২৬ তারিখের দেয়া আইনি নোটিশ জারির দীর্ঘ তিন মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও বাঙ্গাবাড়ি ও গড়গড়িয়া গ্রামের শতাধিক চুল্লি বহাল তবিয়তে চালু থাকা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলেও চলছে নানা কানাঘুষা।
অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে—পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে কি তবে কোনো অদৃশ্য গোপন চুক্তি রয়েছে? যে কারণে পরিবেশ অধিদপ্তরের আইনী নোটিশ আইওয়াশ মাত্র।
নিয়ম অনুযায়ী পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা ও তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও, সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যখন বলেন ‘পরিবেশ অধিদপ্তর চাইলে ম্যাজিস্ট্রেট দেয়া হবে’, উপজেলা প্রশাসনের এমন বক্তব্য দায় এড়ানোই স্পষ্ট হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের এডি'র স্বাক্ষরিত আইনি নোটিশ কেবল লোক দেখানো কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রেখে বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ার পেছনে ওই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সাথে এক ধরনের গোপন সমঝোতার গুঞ্জন উঠেছে ।
সচেতন মহলের মতামত, কামালেরপাড়া ইউনিয়নকে সম্পূর্ণ পরিবেশ বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে হলে কালক্ষেপণ না করে নোটিশপ্রাপ্ত অবৈধ চুল্লিগুলোর মালিকদের বিরুদ্ধে দ্রুত পরিবেশ আইনে নিয়মিত মামলা ও গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে হবে।
সেই সাথে কেবল চুল্লি ভেঙে দেওয়া নয়, কয়লা তৈরির সমস্ত কাঁচামাল ও কাঠ সম্পূর্ণ বাজেয়াপ্ত করে দৃষ্টান্তমূলক জরিমানা আদায় করতে হবে।
প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে বা অদৃশ্য শক্তির জোরে যারা এই অবৈধ ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছে, তাদের ও মূলোৎপাটন করতে হবে।
প্রশাসন চলে যাওয়ার পর যাতে পুনরায় চুল্লি গড়ে উঠতে না পারে, সেজন্য স্থানীয় চেয়ারম্যান, জনপ্রতিনিধি,,থানা পুলিম ও গ্রাম পুলিশদের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের এডি আজহারুল ইসলামের সাথে সম্প্রতি একটি অবৈধ কয়লা তৈরি কারখানা ভাঙচুরের সময় কথা হলে তিনি বলেন পর্যায়ক্রমে এসব অবৈধ কয়লা তৈরি কারখানা ভাঙ্গার ব্যবস্থা করা হবে। তবে সেটা ছিল সাংবাদিকদের বুঝিয়ে ওইখান থেকে সরে নেয়া।
সাঘাটার সবুজ প্রকৃতি, ফসলি জমি এবং সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই গোপন আঁতাত ভেঙে কবে নাগাদ চূড়ান্ত ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে—এখন সেটাই দেখার বিষয়।

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কামালেরপাড়া ইউনিয়নের বাঙ্গাবাড়ি, গড়গড়িয়া ও কিংকরপুর এলাকার লোকালয় ও ফসলি জমির বুক চিরে গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির চুল্লি।
তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে আইনি নোটিশ জারির তিন মাস পেরিয়ে গেলেও অদৃশ্য এক শক্তির ইশারায় চুল্লিগুলো বন্ধ হয়নি, বরং আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মুখে পড়লেও প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এই রহস্যজনক নীরবতা এক গভীর আঁতাত বা গোপন চুক্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে অনেকেই জানান।
কাঠ পোড়ানো চুল্লীর ছবি, ভিডিও স্থানীয়, জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় একাধিক বার সংবাদ প্রচার হলেও প্রশাসন শুধুমাত্র কাঁঠালতলীর একটি কারখানা ভেঙেই দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালন করে। অথচ তার পাশেই গড়গড়িয়া গ্রামে শতাধিক চুল্লীতে এবং বাঙ্গাবাড়ি এলাকায় শতাধিক চুল্লীতে রাতদিন একাকার করে কাঠ পুড়ে কয়লা তৈরি করছে।
অনেকেই জানান, কামালেরপাড়ার এই অঞ্চলে অবৈধ কয়লা তৈরির ইতিহাস বেশ পুরোনো। এর আগেও স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে কিছু চুল্লির ইট খুলে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হলো, প্রশাসনের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ফিরে যাওয়ার দু’-তিন দিনের মধ্যেই চুল্লী তৈরি করে পূর্বের ন্যয় রহস্যজনক ভাবে সক্রিয় হয়ে উঠে কাঠ পুড়ে কয়লা তৈরির প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযানে নামমাত্র কিছু ইট সরিয়ে নেওয়া হলেও চুল্লি মালিকদের বিরুদ্ধে কোনো আর্থিক জরিমানা বা কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। এই নামকা ওয়াস্তে ভাঙনের সুযোগ নিয়ে কয়লা ব্যবসায়ীরা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং নতুন উদ্যমে গাছপালা কেটে চুল্লিতে পোড়াতে শুরু করে।
ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের অবাধ নিধনে কামালেরপাড়াসহ আশেপাশের এলাকার সবুজ প্রকৃতি আজ হুমকির মুখে । চুল্লিগুলো থেকে দিনরাত যে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া নির্গত হয়, তা পুরো এলাকার আকাশ আচ্ছন্ন করে রাখে।
ফলে তীব্র শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি, অ্যাজমা এবং চোখের নানাবিধ সমস্যায় ভুগছেন শিশু ও বয়স্করা।
চুল্লির বিষাক্ত ধোঁয়া ও গ্যাসে খেতের ধানের শীষ পুড়ে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে, অকালে ঝরে পড়ছে ফলদ গাছের আম, কাঁঠালসহ নানা ফল। পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে মাটির উর্বরতাশক্তি।
চুল্লী বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের গত ১৭ জুন -২০২৬ তারিখের দেয়া আইনি নোটিশ জারির দীর্ঘ তিন মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও বাঙ্গাবাড়ি ও গড়গড়িয়া গ্রামের শতাধিক চুল্লি বহাল তবিয়তে চালু থাকা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলেও চলছে নানা কানাঘুষা।
অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে—পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে কি তবে কোনো অদৃশ্য গোপন চুক্তি রয়েছে? যে কারণে পরিবেশ অধিদপ্তরের আইনী নোটিশ আইওয়াশ মাত্র।
নিয়ম অনুযায়ী পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা ও তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও, সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যখন বলেন ‘পরিবেশ অধিদপ্তর চাইলে ম্যাজিস্ট্রেট দেয়া হবে’, উপজেলা প্রশাসনের এমন বক্তব্য দায় এড়ানোই স্পষ্ট হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের এডি'র স্বাক্ষরিত আইনি নোটিশ কেবল লোক দেখানো কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রেখে বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ার পেছনে ওই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সাথে এক ধরনের গোপন সমঝোতার গুঞ্জন উঠেছে ।
সচেতন মহলের মতামত, কামালেরপাড়া ইউনিয়নকে সম্পূর্ণ পরিবেশ বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে হলে কালক্ষেপণ না করে নোটিশপ্রাপ্ত অবৈধ চুল্লিগুলোর মালিকদের বিরুদ্ধে দ্রুত পরিবেশ আইনে নিয়মিত মামলা ও গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে হবে।
সেই সাথে কেবল চুল্লি ভেঙে দেওয়া নয়, কয়লা তৈরির সমস্ত কাঁচামাল ও কাঠ সম্পূর্ণ বাজেয়াপ্ত করে দৃষ্টান্তমূলক জরিমানা আদায় করতে হবে।
প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে বা অদৃশ্য শক্তির জোরে যারা এই অবৈধ ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছে, তাদের ও মূলোৎপাটন করতে হবে।
প্রশাসন চলে যাওয়ার পর যাতে পুনরায় চুল্লি গড়ে উঠতে না পারে, সেজন্য স্থানীয় চেয়ারম্যান, জনপ্রতিনিধি,,থানা পুলিম ও গ্রাম পুলিশদের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের এডি আজহারুল ইসলামের সাথে সম্প্রতি একটি অবৈধ কয়লা তৈরি কারখানা ভাঙচুরের সময় কথা হলে তিনি বলেন পর্যায়ক্রমে এসব অবৈধ কয়লা তৈরি কারখানা ভাঙ্গার ব্যবস্থা করা হবে। তবে সেটা ছিল সাংবাদিকদের বুঝিয়ে ওইখান থেকে সরে নেয়া।
সাঘাটার সবুজ প্রকৃতি, ফসলি জমি এবং সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই গোপন আঁতাত ভেঙে কবে নাগাদ চূড়ান্ত ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে—এখন সেটাই দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন