দৈনিক লাল বার্তা

গরুর গাড়ি হারিয়েছে, স্মৃতি হয়ে টিকে আছে একটি চাকা



গরুর গাড়ি হারিয়েছে, স্মৃতি হয়ে টিকে আছে একটি চাকা

একসময় গ্রামবাংলার কৃষি ও যোগাযোগব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল গরুর গাড়ি। আধুনিক যান্ত্রিক যানবাহনের প্রসারে সেই ঐতিহ্য এখন প্রায় বিলুপ্ত। তবে অতীতের সেই স্মৃতি ও ইতিহাস ধরে রাখতে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে একটি গরুর গাড়ির চাকা সংরক্ষণ করেছেন জিল্লুর রহমান খন্দকার (৭০)।

সম্প্রতি সাদুল্লাপুর শহরতলীতে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বহু বছরের পুরোনো গরুর গাড়ির একটি চাকা যতœ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তার ভাষ্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গ্রামবাংলার ইতিহাস, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই এই উদ্যোগ।

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে একসময় কৃষিপণ্য ও যাত্রী পরিবহনের অন্যতম প্রধান বাহন ছিল দুই চাকার গরুর গাড়ি। সময়ের পরিবর্তন ও আধুনিক যানবাহনের প্রসারে গরুর গাড়ির ব্যবহার যেমন কমে গেছে, তেমনি বিলুপ্তির পথে চলে গেছে গাড়িয়াল পেশাও।

স্থানীয় বাসিন্দা মহির উদ্দিন (৭০) বলেন, একসময় গরুর গাড়ির চাকা তৈরির শব্দে মুখর থাকত মিস্ত্রিপাড়া। ক্রেতা-বিক্রেতার আনাগোনায় এলাকায় ছিল কর্মচাঞ্চল্য। এখন সেই দৃশ্য আর দেখা যায় না।

একসময় গরুর গাড়ির চাকা তৈরির কারিগর ছিলেন খেতাব উদ্দিন (৭৫)। তিনি বলেন, আগে গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় গরুর গাড়ির চাকা তৈরি হতো এবং এই শিল্পের সঙ্গে বহু মানুষ জড়িত ছিলেন। গরুর গাড়ির ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ কারিগর পৈতৃক পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন।

জিল্লুর রহমান খন্দকার বলেন, তাদের পরিবারেও একসময় একটি গরুর গাড়ি ছিল, যা কৃষিকাজসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহার করা হতো। গাড়িটি আর নেই, তবে এর একটি চাকা সংরক্ষণ করে রেখেছেন। তার আশা, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে দেবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক লাল বার্তা

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬


গরুর গাড়ি হারিয়েছে, স্মৃতি হয়ে টিকে আছে একটি চাকা

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

featured Image


একসময় গ্রামবাংলার কৃষি ও যোগাযোগব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল গরুর গাড়ি। আধুনিক যান্ত্রিক যানবাহনের প্রসারে সেই ঐতিহ্য এখন প্রায় বিলুপ্ত। তবে অতীতের সেই স্মৃতি ও ইতিহাস ধরে রাখতে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে একটি গরুর গাড়ির চাকা সংরক্ষণ করেছেন জিল্লুর রহমান খন্দকার (৭০)।


সম্প্রতি সাদুল্লাপুর শহরতলীতে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বহু বছরের পুরোনো গরুর গাড়ির একটি চাকা যতœ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তার ভাষ্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গ্রামবাংলার ইতিহাস, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই এই উদ্যোগ।


স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে একসময় কৃষিপণ্য ও যাত্রী পরিবহনের অন্যতম প্রধান বাহন ছিল দুই চাকার গরুর গাড়ি। সময়ের পরিবর্তন ও আধুনিক যানবাহনের প্রসারে গরুর গাড়ির ব্যবহার যেমন কমে গেছে, তেমনি বিলুপ্তির পথে চলে গেছে গাড়িয়াল পেশাও।

স্থানীয় বাসিন্দা মহির উদ্দিন (৭০) বলেন, একসময় গরুর গাড়ির চাকা তৈরির শব্দে মুখর থাকত মিস্ত্রিপাড়া। ক্রেতা-বিক্রেতার আনাগোনায় এলাকায় ছিল কর্মচাঞ্চল্য। এখন সেই দৃশ্য আর দেখা যায় না।


একসময় গরুর গাড়ির চাকা তৈরির কারিগর ছিলেন খেতাব উদ্দিন (৭৫)। তিনি বলেন, আগে গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় গরুর গাড়ির চাকা তৈরি হতো এবং এই শিল্পের সঙ্গে বহু মানুষ জড়িত ছিলেন। গরুর গাড়ির ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ কারিগর পৈতৃক পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন।


জিল্লুর রহমান খন্দকার বলেন, তাদের পরিবারেও একসময় একটি গরুর গাড়ি ছিল, যা কৃষিকাজসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহার করা হতো। গাড়িটি আর নেই, তবে এর একটি চাকা সংরক্ষণ করে রেখেছেন। তার আশা, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে দেবে।




দৈনিক লাল বার্তা

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা