রহমান মাহবুব:
কিছু মানুষ কথা বলছে, কথা বলছে নন স্টপ। কে কার আগে কি কথা বলবে তারও কোনো সিরিয়াল নেই, সমন্বয নেই, নেই দিকনির্দেশনা। এখন কথা হচ্ছে যারা কথা বলছে, তাদের সেসব বিষয়ে কথা বলার এখতিয়ার আছে কিনা সেটাও বিবেচ্য।
হামের টিকা নেই, মরছে শিশু শতশত। বিদ্যুত নেই, বাতি জ্বলছে না, দেশ ডুবছে অন্ধকারে। পেট্রোল পাম্পে তেল নেই, বন্ধ হচ্ছে গাড়িঘোড়া। রাষ্ট্র না কি এখন অর্থ কষ্টে ভুগছে। এসব দায়না কি স্বৈরাচারের! টাকা, বিদ্যুত, তেল, হামের টিকা... সবই না কি স্বৈরাচার লুট করেছে, বিদেশে পাচার করেছে। স্বৈরাচার কি জানতো তাদের ক্ষমতা ত্যাগ করতে হবে? যদি অন্তত তিন দিনও সময় পেতো তবে না হয় তারা লুটেপুটে বস্তায় ভরে নিয়ে যেতে পারত। একটি সামরিক বিমানে কত টাকা গেছে তা সংশ্লিষ্টরা বলতে পারবে।
সরকারের মন্ত্রী/উপদেষ্টা পরিষদে কম বয়সীদের সমাবেশ ঘটেছে, অভিজ্ঞ প্রবীণরা বসে আছে সাইড লাইনের বেঞ্চে। সংসদ/সংসদের বাইরে তাদের কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। কথা তো বলবেন তারাই, যারা জনপ্রতিনিধি। আবার মন্ত্রণালয়ে আছে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, তাদের উপরে বা নীচে রয়েছে উপদেষ্টা! প্রধানমন্ত্রীকে উপদেশ দেওয়ার পরিবর্তে তারা দেশবাসীকে উপদেশ দিচ্ছেন। তাহলে মন্ত্রী/উপমন্ত্রীর দায়িত্ব কি? সচিব মন্ত্রণালয়ের Principle Accounting Officer হলেও তার কোন ছায়াও দেখা যায় না। তিনিই তো মূলত মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র...
সরকার বহুসংখ্যক মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দিলেও অন্তত ৯টি গুরুত্বপূর্ণ বড় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছে তিন জন সদস্য। অথচ ইতঃপূর্বে প্রত্যেকটিতে সিনিয়র সংসদ সদস্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। একজন কে তিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদানে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হচ্ছে কি না যাচাই করা যেতে পারে অথবা ভুক্তভোগিরা বলতে পারবে। দেশের আঠার লক্ষ কর্মচারির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যে মন্ত্রণালয়ের ওপর ন্যস্ত, সেই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে অপর একটি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পনের পূর্ব নজির তো দেখি না!
সরকারের গঠন, কার্যাদি নিয়ে কেউ কথা বলছে না। পূর্বের ন্যায় এখানেও জড়ো হয়েছে শতশত তেলবাজ, যারা কথায় কথায় সকল দায় স্বৈরাচারের ওপর চাপায়ে সরকারের ঘাড় পরিস্কার রাখতে চেষ্টা করছে, যেমনটা এর আগেও দেখেছে জনগণ। জনগণকে আরও কিছুটা কষ্ট করার আহ্বান কে জানাতে পারেন? প্রধানমন্ত্রী... জনগণ যাকে ভোট প্রদানের মাধ্যমে ঐ পদে বসিয়েছে।
সকল ধরণের মিডিয়ার ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করে নিতে হবে। তারা কাজ করুক নীতি ও নৈতিকতার ভিত্তিতে। তাহলে সেখান থেকে কিছু সঠিক চিত্র ও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতি তিন মাস অন্তর সাংবাদিক নেতাদের সাথে সভা করবেন মর্মে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। আমরা আমজনতা বলি কি, এসব তেলবাজ, মতলববাজ মিডিয়ার লোকদের সাথে সভাসমাবেশ না করে নির্বাচিত গণ প্রতিনিধিদের সাথে সভা করা উত্তম। তারাই আপনাদের স্বজন। তাদের ওপর দায়িত্ব অর্পন করলে তারাই জননীতি, শিক্ষানীতি, কৃষিনীতি, শিল্পনীতি, মিডিয়া নীতিসহ সব নীতি তৈরি করে দিতে পারবেন, প্রয়োজনীয় উপদেশও তাদের থেকে পাওয়া যেতে পারে। রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় রোধে জনগণ ও সরকারের মধ্যে মধ্যস্বত্বভোগী নিয়োগ বন্ধ করা হলে সরকার টেকসই ও শক্তিশালী হবে, সরকারের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। একমাত্র আমজনতার যোগ্য প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রের সমস্যা সমাধানে কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারে, অন্য কেউ না...
২৩.০৪.২৬

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
রহমান মাহবুব:
কিছু মানুষ কথা বলছে, কথা বলছে নন স্টপ। কে কার আগে কি কথা বলবে তারও কোনো সিরিয়াল নেই, সমন্বয নেই, নেই দিকনির্দেশনা। এখন কথা হচ্ছে যারা কথা বলছে, তাদের সেসব বিষয়ে কথা বলার এখতিয়ার আছে কিনা সেটাও বিবেচ্য।
হামের টিকা নেই, মরছে শিশু শতশত। বিদ্যুত নেই, বাতি জ্বলছে না, দেশ ডুবছে অন্ধকারে। পেট্রোল পাম্পে তেল নেই, বন্ধ হচ্ছে গাড়িঘোড়া। রাষ্ট্র না কি এখন অর্থ কষ্টে ভুগছে। এসব দায়না কি স্বৈরাচারের! টাকা, বিদ্যুত, তেল, হামের টিকা... সবই না কি স্বৈরাচার লুট করেছে, বিদেশে পাচার করেছে। স্বৈরাচার কি জানতো তাদের ক্ষমতা ত্যাগ করতে হবে? যদি অন্তত তিন দিনও সময় পেতো তবে না হয় তারা লুটেপুটে বস্তায় ভরে নিয়ে যেতে পারত। একটি সামরিক বিমানে কত টাকা গেছে তা সংশ্লিষ্টরা বলতে পারবে।
সরকারের মন্ত্রী/উপদেষ্টা পরিষদে কম বয়সীদের সমাবেশ ঘটেছে, অভিজ্ঞ প্রবীণরা বসে আছে সাইড লাইনের বেঞ্চে। সংসদ/সংসদের বাইরে তাদের কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। কথা তো বলবেন তারাই, যারা জনপ্রতিনিধি। আবার মন্ত্রণালয়ে আছে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, তাদের উপরে বা নীচে রয়েছে উপদেষ্টা! প্রধানমন্ত্রীকে উপদেশ দেওয়ার পরিবর্তে তারা দেশবাসীকে উপদেশ দিচ্ছেন। তাহলে মন্ত্রী/উপমন্ত্রীর দায়িত্ব কি? সচিব মন্ত্রণালয়ের Principle Accounting Officer হলেও তার কোন ছায়াও দেখা যায় না। তিনিই তো মূলত মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র...
সরকার বহুসংখ্যক মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দিলেও অন্তত ৯টি গুরুত্বপূর্ণ বড় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছে তিন জন সদস্য। অথচ ইতঃপূর্বে প্রত্যেকটিতে সিনিয়র সংসদ সদস্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। একজন কে তিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদানে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হচ্ছে কি না যাচাই করা যেতে পারে অথবা ভুক্তভোগিরা বলতে পারবে। দেশের আঠার লক্ষ কর্মচারির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যে মন্ত্রণালয়ের ওপর ন্যস্ত, সেই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে অপর একটি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পনের পূর্ব নজির তো দেখি না!
সরকারের গঠন, কার্যাদি নিয়ে কেউ কথা বলছে না। পূর্বের ন্যায় এখানেও জড়ো হয়েছে শতশত তেলবাজ, যারা কথায় কথায় সকল দায় স্বৈরাচারের ওপর চাপায়ে সরকারের ঘাড় পরিস্কার রাখতে চেষ্টা করছে, যেমনটা এর আগেও দেখেছে জনগণ। জনগণকে আরও কিছুটা কষ্ট করার আহ্বান কে জানাতে পারেন? প্রধানমন্ত্রী... জনগণ যাকে ভোট প্রদানের মাধ্যমে ঐ পদে বসিয়েছে।
সকল ধরণের মিডিয়ার ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করে নিতে হবে। তারা কাজ করুক নীতি ও নৈতিকতার ভিত্তিতে। তাহলে সেখান থেকে কিছু সঠিক চিত্র ও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতি তিন মাস অন্তর সাংবাদিক নেতাদের সাথে সভা করবেন মর্মে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। আমরা আমজনতা বলি কি, এসব তেলবাজ, মতলববাজ মিডিয়ার লোকদের সাথে সভাসমাবেশ না করে নির্বাচিত গণ প্রতিনিধিদের সাথে সভা করা উত্তম। তারাই আপনাদের স্বজন। তাদের ওপর দায়িত্ব অর্পন করলে তারাই জননীতি, শিক্ষানীতি, কৃষিনীতি, শিল্পনীতি, মিডিয়া নীতিসহ সব নীতি তৈরি করে দিতে পারবেন, প্রয়োজনীয় উপদেশও তাদের থেকে পাওয়া যেতে পারে। রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় রোধে জনগণ ও সরকারের মধ্যে মধ্যস্বত্বভোগী নিয়োগ বন্ধ করা হলে সরকার টেকসই ও শক্তিশালী হবে, সরকারের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। একমাত্র আমজনতার যোগ্য প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রের সমস্যা সমাধানে কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারে, অন্য কেউ না...
২৩.০৪.২৬

আপনার মতামত লিখুন