দৈনিক লাল বার্তা

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা প্রধানমন্ত্রীর



বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া এসে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মালয়েশিয়া সরকারের উষ্ণ আতিথেয়তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য, বিনিয়োগ, তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং সেমিকন্ডাক্টরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হন। বিদ্যমান যৌথ কমিশন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ের পরামর্শ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট লাভ করেছে। দেশে বর্তমানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে এবং সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে তিনি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের প্রতি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। 

সফরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মালয়েশিয়া সফর দুই দেশের রাজনৈতিক ও শ্রম সহযোগিতার ভিত্তি সুদৃঢ় করেছিল। বর্তমান সফর সেই ধারাবাহিকতাকে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শ্রমবাজার ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের দুই দেশের অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি মালয়েশিয়ার বাজারে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটকে পড়া কর্মীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সহজ করার অনুরোধ জানান। উভয় নেতা একটি স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং স্বল্প ব্যয়সম্পন্ন শ্রমিক নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার অব্যাহত সমর্থনের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে দেশটির সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা, আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে অন্তর্ভুক্তি এবং আঞ্চলিক বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে (আরসিইপি) যোগদানের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সহযোগিতার বিষয়ে দুই নেতা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থায় একত্রে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতায় মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য প্রধানমন্ত্রী কৃতজ্ঞতা জানান। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিসহ বৈশ্বিক অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়েও আলোচনা হয়।

সফরকালে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা সংক্রান্ত বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক দলিল ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তার স্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সমৃদ্ধি ও আঞ্চলিক শান্তির এক নতুন যুগের সূচনা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা করেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক লাল বার্তা

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬


বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image



বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া এসে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মালয়েশিয়া সরকারের উষ্ণ আতিথেয়তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


বৈঠকে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য, বিনিয়োগ, তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং সেমিকন্ডাক্টরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হন। বিদ্যমান যৌথ কমিশন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ের পরামর্শ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট লাভ করেছে। দেশে বর্তমানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে এবং সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে তিনি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের প্রতি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। 


সফরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মালয়েশিয়া সফর দুই দেশের রাজনৈতিক ও শ্রম সহযোগিতার ভিত্তি সুদৃঢ় করেছিল। বর্তমান সফর সেই ধারাবাহিকতাকে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


শ্রমবাজার ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের দুই দেশের অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি মালয়েশিয়ার বাজারে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটকে পড়া কর্মীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সহজ করার অনুরোধ জানান। উভয় নেতা একটি স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং স্বল্প ব্যয়সম্পন্ন শ্রমিক নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।


রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার অব্যাহত সমর্থনের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে দেশটির সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা, আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে অন্তর্ভুক্তি এবং আঞ্চলিক বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে (আরসিইপি) যোগদানের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।


আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সহযোগিতার বিষয়ে দুই নেতা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থায় একত্রে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতায় মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য প্রধানমন্ত্রী কৃতজ্ঞতা জানান। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিসহ বৈশ্বিক অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়েও আলোচনা হয়।


সফরকালে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা সংক্রান্ত বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক দলিল ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তার স্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সমৃদ্ধি ও আঞ্চলিক শান্তির এক নতুন যুগের সূচনা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা করেন।


দৈনিক লাল বার্তা

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা