প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬
মহাসড়কে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং ও লোড আনলোড: ঝুঁকিতে চলছে যানবাহন
মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম:, সিরাজগঞ্জ ||
বগুড়া - ঢাকা মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ নলকা থেকে টাঙ্গাইল এলেঙ্গা পর্যন্ত যমুনা সেতুর পশ্চিম ও পুর্ব দুই পাড়ে প্রায় ৩০ কিলোমিটার মহাসড়ক জুড়ে দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকায় প্রায় ১০ টি পয়েন্টে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে গাড়ি পার্কিং ও লোড আনলোডের ব্যবসা। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে চলছে যানবাহন। আর এসব অবৈধ গাড়ি পার্কিং ও লোড আনলোডের ব্যবসাগুলো নিয়ন্ত্রণ করছেন যমুনা সেতুর সিকিউরিটি সরকার মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রফিক।সরেজমিনে জানা যায়, যমুনা সেতুর উপর দিয়ে অতিরিক্ত মালামাল বহনকারী যানগুলো সেতুর টোল প্লাজার ওজন পরিমাপক স্টেশন থেকে গাড়িগুলো ফেরত দেওয়া হয় মালামাল কমানোর জন্য। টোল প্লাজার পাশেই সেতু কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত স্থান রয়েছে গাড়ি থেকে অতিরিক্ত মালামাল কাটিং ও লোড আনলোডের জন্য। কিন্তু সেই পয়েন্ট উপেক্ষা করে সিকিউরিটি সরকার মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এর নেতৃত্বে স্থানীয় লোকজন মিলে মহাসড়কের উপরে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং ও লোড আনলোডের ব্যবসা গড়ে তুলে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যমুনা সেতু পশ্চিম দুর্ঘটনা প্রবন এলাকা মুলিবাড়ি চেকপোস্ট ও ওভার ব্রীজের নিকট একটি আঞ্চলিক সড়ক বন্ধ করে মহাসড়কে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং করে কাটিং ও লোড আনলোডের ব্যবসা করছে। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। এ পয়েন্ট পরিচালনা করেন স্থানীয় বিশা ও গিয়াস উদ্দিন। আরেক দুর্ঘটনা প্রবন এলাকা ঝাঐল ওভার ব্রীজের নিকট মহাসড়কের উপরের পয়েন্টটি দেখভাল করেন স্থানীয় রায়হান গং। অপরদিকে কোনাবাড়ি ওভার ব্রীজের পাশেই মহাসড়কের উপরের পয়েন্টটি পরিচালনা করেন স্থানীয় শাহবাজপুরের মিল্টন গং এবং মুক্তার হোসেন গংরা মিলে কড্ডা বাস স্টপেজে ব্যস্ততম সড়কের উপর ট্রাক পার্কিং করে কাটিং ও লোড আনলোড করার কারণে শত শত গাড়ির যানজট সৃষ্টি ও যাত্রী সাধারণ চরম ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে। এসব অবৈধ পার্কিংয়ে কাটিং ও লোড আনলোডের কারণে প্রতিনিয়ত ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে নির্মাণাধীন মহাসড়কও ক্ষতি গ্রস্ত হচ্ছে।কোনাবাড়ি পয়েন্টের মিল্টন বলেন, যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ ও সেতুর পশ্চিম থানার সাথে কথা বলেই আমরা কাজ করছি।ঝাঐল পয়েন্টের রায়হান বলেন, আমরা সেতু কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে পয়েন্ট করেছি। কড্ডা পয়েন্টের মুক্তার হোসেন গং বলেন, সবার সাথে কথা বলেই কাজ করছি। মুলিবাড়ি চেকপোস্ট ও ওভার ব্রীজ পয়েন্টের বিশা ও গিয়াস উদ্দিন গং বলেন, রফিক সরকারের মাধ্যমে থানা ও সেতু কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেই আমরা এখানে পয়েন্ট করেছি। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন এসব পয়েন্টের প্রত্যেক গাড়ি থেকে টিপ প্রতি ২০০ টাকা করে দিতে হয় রফিক সরকারকে। গড়ে প্রতিদিন এসকল পয়েন্টগুলো থেকে প্রায় ৩/৪ শত গাড়ি আপ-ডাউন করে।সকল অভিযোগ অস্বীকার করে যমুনা সেতুর সিকিউরিটি ইনচার্জ সরকার মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, এসমস্ত অবৈধ পয়েন্টের সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার নাম ব্যবহার করতে পারে তারা।যমুনা সেতু পশ্চিম থানার পরিদর্শক ( ওসি ) মো, আমিনুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কের উপরে বা পাশে গাড়ি পার্কিং করে বালু-পাথর কাটিং বা লোড আনলোড বিষয়টি সেতু কর্তৃপক্ষের। এটা আমার এখতিয়ারের বাহিরে।যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, আমরা বিষয়টি অবগত। ইতোমধ্যে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে সকল পয়েন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে । এগুলো দেখভাল করার কথা সেতু পশ্চিম থানার। যদি আবার সেগুলো চালু করে তাহলে ওসির সাথে কথা বলে দ্রুত বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেতু কর্তৃপক্ষের কেউ যদি কোনো প্রকার এর সাথে জড়িত থাকে তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা