প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬
কাজিপুরে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া: ধান-ভুট্টা নিয়ে বিপাকে কৃষক
টিএম কামাল,, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ। ||
প্রায় প্রতিদিনই অব্যাহত বৃষ্টিপাত, কখনো রোদ, কখনো হালকা বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার বিপাকে পড়েছেন সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের ধান ও ভুট্টা চাষিরা। দুটি অর্থকরী ফসল ওঠানোর এ মৌসুমে প্রকৃতির বিরূপ আচরণ কৃষকদের চরম বেকায়দায় ফেলেছে। অনেকে ভুট্টা তুলতেও পারছেন না, আবার যারা ভুট্টা তুলেছেন কিংবা ধান মাড়াই করেছেন তারা শুকাতে পারছেন না।কাজিপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে দেখা গেছে, কৃষকরা মেশিনে বা হাতে ভুট্টা মাড়াই করলেও পর্যাপ্ত রোদের কারণে শুকাতে পারছেন না। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে কৃষিবিদরা জানিয়েছেন। ফলে কৃষকের লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে। এতে করে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, এ বছর কাজিপুর উপজেলায় ভূট্টার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ৮০০ হেক্টর। ৮ হাজার ৯১৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষাবাদ হয়েছে। কৃষকরা ভুট্টা শুকাতে না পারায় বিক্রিও করতে পারছেন না। ভরা মৌসুমেও কাজিপুরে ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে না। এ বছর আগাম ঝড় ও ঘন বৃষ্টির পরেও কৃষকরা মাঠ থেকে ভুট্টা সংগ্রহ করে তা মাড়াই করে বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে খুঁজে পাচ্ছেন না ক্রেতা। বৈরী আবহাওয়ার কারণে মহাজন ও পাইকাররা ভুট্টা কিনতে সাহস পাচ্ছেন না। দিনে সূর্যের পর্যাপ্ত আলো না পাওয়ায় ভুট্টা শুকাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। ফলে এখনো পুরোদমে কেনাকাটা শুরু করতে পারেনি তারা।ঘরে মজুদ করে রাখা ভুট্টা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। তেকানী ইউনিয়নের পানাগাড়ী এলাকার কৃষক রহমান আলী জানান, মৌসুমের শুরুতে ভুট্টার মণ ছিল ৯৫০ টাকা। এখন ৭০০ টাকা দরেও কিনছেন না কেউ। ভুট্টা ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন জানান, গত বছর বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি সময় ভুট্টা কেনাকাটা শুরু করি। এ বছর আগাম ঘন ঘন বৃষ্টি ও দিনের বেলা সূর্যের আলো না পাওয়ায় এখনো পরিপূর্ণভাবে কেনাকাটা শুরু করতে পারছি না। এর মধ্যে যেসব কাঁচা ভুট্টা কিনেছি, তা ঠিকমতো শুকাতে পারছি না। প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশ থাকছে মেঘাচ্ছন্ন।যমুনার চরাঞ্চলে দেখা গেল, কৃষকরা ভুট্টা মাড়াই করে শুকাচ্ছেন বালুচর ও বাড়িতে। এই রোদ এই বৃষ্টির কারণে ভুট্টা শুকানো নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন তারা। এতে করে বাড়তি শ্রমিক নিতে হচ্ছে এবং শুকানোর ব্যয় বাড়ছে বলে জানান ওই এলাকার কৃষক আব্দুল মালেক।কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শরিফুল ইসলাম জানান, পর্যাপ্ত সূর্যের আলো না পেলে ভুট্টার সঠিক আর্দ্রতা পাওয়া যায় না। এ কারণেই ভুট্টা ক্রেতারা জোরেশোরে কেনাকাটা শুরু করেননি। বৈরী আবহাওয়া কেটে গেলে ধান ও ভুট্টার বাজার মূল্য বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা