প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬
কাজিপুরে পানির দরে পশুর চামড়া বিক্রি
টিএম কামাল,, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ। ||
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানি দেওয়া গরু-ছাগল, ভেড়া-মহিষের চামড়া এবার পানির দরে বিক্রি হয়েছে। চামড়ার ন্যায্য দাম না পাওয়ায় দরিদ্র মানুষ, কওমি মাদরাসা ও এতিমখানাগুলো কোরবানির চামড়া বিক্রির অর্থ থেকে অনেকটাই বঞ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে মৌসুমি ফড়িয়া ব্যবসায়ীরাও বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর চামড়ার দাম ছিল অনেক কম। বিশেষ করে ছাগলের চামড়ার তেমন কোনো ক্রেতা ছিল না। অনেক এলাকায় দাম না থাকায় খাসির চামড়া রাস্তায় ফেলে দিতে দেখা গেছে। এতে সাধারণ মানুষ হতাশা প্রকাশ করেছেন।যমুনার চরাঞ্চলের মোকতাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি জানান, ১ লাখ ১০ হাজার টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ৪০০ টাকায়। আর খাসির চামড়ার দাম না থাকায় অনেকেই তা ফেলে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “চামড়ার এমন কম দাম আগে কখনো দেখিনি। এতে গরিব মানুষ ও মাদরাসা-এতিমখানাগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” মাইজবাড়ী ইউনিয়নের নজরুল ইসলাম নামে এক মৌসুমি ফড়িয়া ব্যবসায়ী জানান, এ বছর চামড়া কিনে তিনি বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। তিনি বলেন, “ভেবেছিলাম ঈদের পর চামড়া বিক্রি করে কিছু লাভ হবে। কিন্তু বাজারে দাম কম থাকায় লাভ তো দূরের কথা, মূলধনই উঠছে না। এই লোকসান কাটিয়ে উঠতে অনেক দিন সময় লাগবে।”এলাকাবাসীর মতে, গত বছরের তুলনায় এ বছর কোরবানির সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে গরু-ছাগলের দাম তুলনামূলকভাবে ভালো থাকলেও কোরবানির চামড়ার দাম ছিল অত্যন্ত কম। ফলে চামড়া বিক্রিকে কেন্দ্র করে যে অর্থ সাধারণত দরিদ্র মানুষ, মাদরাসা ও এতিমখানার কাজে ব্যয় করা হয়, এবার তা অনেকটাই কমে গেছে। স্থানীয়রা চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও বাজার ব্যবস্থাপনা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা