প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৬
ঈদুল আযহার আনন্দ ম্লান: রায়গঞ্জে টানা বৃষ্টি ও শ্রমিক সংকটে জমিতেই পচছে বোরো ধান
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
যেখানে ঈদুল আযহার আনন্দ আর কোরবানির প্রস্তুতিতে মুখর থাকার কথা ছিল সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার কৃষকদের ঘর, সেখানে এখন কেবলই হতাশা আর কান্নার রোল। টানা কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণ, জমিতে হাঁটু পানি জলাবদ্ধতা, তীব্র শ্রমিক সংকট এবং বাজারে ধানের কম দাম—সব মিলিয়ে বোরো ধান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। মাঠের পাকা ধান ঘরে তুলতে না পেরে লোকসানের মুখে পড়েছেন উপজেলার হাজারো কৃষক। টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ধানক্ষেত এখন নদী গত কয়েক দিনের টানা ও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণে রায়গঞ্জের নিচু এলাকার ফসলি জমিগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। শত শত হেক্টর জমির পাকা ও আধা-পাকা বোরো ধান এখন পানির নিচে। দীর্ঘদিন পানিতে ডুবে থাকায় অনেক জমিতেই ধান গাছ পচতে শুরু করেছে, কোথাও আবার ধানে গজিয়ে উঠছে অঙ্কুর। কৃষকরা বুকভরা আশা নিয়ে যে সোনার ফসল ফলিয়েছিলেন, তা এখন চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।ঈদের মুখে তীব্র শ্রমিক সংকট, আকাশছোঁয়া মজুরি ঈদুল আযহার সময় এবং টানা বৃষ্টির কারণে মাঠের কাজে নামতে চাচ্ছেন না শ্রমিকরা। ফলে এলাকায় তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। এই সুযোগে বহিরাগত ও স্থানীয় অলস শ্রমিকরা পারিশ্রমিক হাঁকাচ্ছেন আকাশছোঁয়া। "অন্য সময়ে যে শ্রমিকের মজুরি ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায়। তাও আবার তিন বেলা ভালো খাবার দিতে হচ্ছে। এত টাকা দিয়ে ধান কাটালে ঘরে তোলার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট থাকছেনা।"হতাশ কণ্ঠে জানালেন উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের এক ভুক্তভোগী কৃষক। বাজারে ধানের দাম কম, লোকসানের হিসাব কৃষকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ার আরও একটি বড় কারণ বাজারে ধানের আশানুরূপ দাম না থাকা।একদিকে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, তার ওপর দ্বিগুণ মজুরি দিয়ে ধান কাটার পর বাজারে গিয়ে মিলছে না ন্যায্য মূল্য। বর্তমান বাজারে ধানের যে দাম, তাতে ধান বিক্রি করে শ্রমিকের মজুরি ও চাষের খরচই উঠছে না।উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, অনেক কৃষক নিরুপায় হয়ে নিজেরাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোমর পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। অনেকের সামর্থ্য না থাকায় পাকা ধান মাঠেই ফেলে রেখেছেন। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এনজিওর ঋণ, ধার-দেনা এবং চড়া সুদে মহাজনদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তারা বোরো চাষ করেছিলেন। আশা ছিল, ধান বিক্রি করে ঋণ শোধ করে পরিবার নিয়ে একটু ভালোভাবে ঈদ কাটাবেন। কিন্তু প্রকৃতির নিষ্ঠুর পরিহাস এবং বাজারের মন্দা পরিস্থিতি তাদের সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।স্থানীয় সচেতন মহল ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, এই মুহূর্তে যদি সরকারিভাবে কোনো প্রণোদনা বা বিশেষ কোনো সহায়তা না দেওয়া হয়, তবে রায়গঞ্জের শত শত কৃষক ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দেউলিয়া হয়ে পড়বেন। বাজার মনিটরিং নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন সর্বস্বান্ত কৃষকরা।উপজেলায় কত হেক্টর জমির ধান জমিতে রয়েছে এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মমিনুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা