প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ মে ২০২৬
চলনবিলে বৃষ্টির পানিতে ‘কোচ’ নিয়ে বোয়াল শিকারের ধুম
সাব্বির মির্জা, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) ||
আকাশে মেঘের ঘনঘটা আর অবিরাম বৃষ্টি। আর এই বৃষ্টির পানিতেই প্রাণ ফিরে পেয়েছে চলনবিল। বর্ষার নতুন পানি বিলের বুকে আসতেই শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বোয়াল মাছ শিকারের ধুম। চলনবিল অঞ্চলের তাড়াশ, সিংড়া, চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া এলাকার মৎস্যজীবীদের পাশাপাশি সৌখিন শিকারিরা এখন মেতে উঠেছেন ‘কোচ’ (লোহার তৈরি এক প্রকার টেঁটা) দিয়ে বোয়াল শিকারের উৎসবে।স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছরই জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি সময়ে যখন আষাঢ়ের আগাম বৃষ্টি শুরু হয়, তখন বিলের নিচু এলাকায় নতুন পানি ঢুকতে থাকে। এই নতুন পানির স্রোতে নদীর বোয়াল মাছগুলো ডিম ছাড়ার জন্য এবং ছোট মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে বিলের অগভীর পানিতে উঠে আসে। আর এই সুযোগটিই নেন স্থানীয় শিকারিরা।সরেজমিনে চলনবিলের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টির মধ্যে দিন-রাত সমান করে চলছে বোয়াল শিকার। তবে রাতের দৃশ্যটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। হাজারো শিকারি হাতে টর্চলাইট বা হারিকেন এবং ধারালো কোচ নিয়ে নৌকায় কিংবা হাঁটু পানিতে নেমে পড়েন। পানির মৃদু আলোড়ন বা বোয়াল মাছের ‘ঘোঁত’ শব্দ শুনেই নিখুঁত নিশানায় ছুঁড়ে মারা হয় কোচ। একেকটি বোয়াল ৫ থেকে শুরু করে ১০-১২ কেজি পর্যন্ত ওজনের হয়ে থাকে।সিংড়া ও তাড়াশ এলাকার বেশ কয়েকজন শিকারির সাথে কথা বলে জানা যায়, এটি কেবল জীবিকা নয়, চলনবিলবাসীর জন্য একটি ঐতিহ্য ও উৎসবের অংশ।"নতুন পানি আসার এই সময়টার জন্য আমরা সারা বছর অপেক্ষা করি। বৃষ্টির মধ্যে দল বেঁধে কোচ নিয়ে বিলে নামার আনন্দই আলাদা। বড় একটা বোয়াল কোঁচে বিঁধলে যে তৃপ্তি পাওয়া যায়, তা বাজারে কিনে পাওয়া যায় না।" — স্থানীয় এক সৌখিন শিকারি।বিলের নতুন পানির টাটকা বোয়াল মাছের চাহিদাও বাজারে আকাশচুম্বী। শিকারিদের ধরে আনা এই মাছগুলো স্থানীয় আড়ত ও বাজারগুলোতে তোলার সাথে সাথেই চড়া দামে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। আকারভেদে প্রতি কেজি বোয়াল মাছ ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।এদিকে মৎস্য কর্মকর্তাদের মতে, নতুন পানিতে বোয়াল শিকার গ্রামীণ সংস্কৃতির অংশ হলেও, ডিমওয়ালা মা মাছ বা পোনা মাছ যাতে নির্বিচারে ধ্বংস না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। কারেন্ট জাল বা চায়না দুয়ারির মতো ক্ষতিকারক ফাঁদ ব্যবহার না করে ঐতিহ্যবাহী কোচের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে এই শিকার চলনবিলে মাছের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।আবহমান বাংলার এই চিরায়ত রূপ চলনবিলকে প্রতি বর্ষায় নতুন করে চেনাায়। আর বৃষ্টির রিমঝিম শব্দের মাঝে কোচের আঘাতে বোয়াল শিকারের এই দৃশ্য চলনবিল অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রাকে করে তুলেছে আরও উৎসবমুখর।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা