প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬
চান্দাইকোনায় এক কিলোমিটার রাস্তা ছিনতাই: ভোগান্তিতে এলাকাবাসী
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
মানচিত্র ও সরকারি নথিতে দুই কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির অস্তিত্ব থাকলেও, বাস্তবে সেখানে এখন শুধুই ফসলি জমি। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের রুদ্রপুর চাকিপাড়া থেকে সোনারাম দুক্কি মরা বটতলা পর্যন্ত কাঁচা সড়কটির এক কিলোমিটার সম্পূর্ণ বিলীন অথবা ছিনতাই হয়ে গেছে। অভিযোগ উঠেছে, সড়কের দুই পাশের প্রভাবশালী জমির মালিকেরা পর্যায়ক্রমে মাটি কেটে সড়কটি নিজেদের জমির সাথে মিশিয়ে নিয়েছেন। ফলে দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত এই গ্রামীণ পথটি হারিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় হাজারো মানুষ।রুদ্রপুর চাকিপাড়া থেকে সোনারাম দুক্কি মরা বটতলা পর্যন্ত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যেখানে একসময় স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সচল কাঁচা সড়ক ছিল। এর মধ্যে এক কিলোমিটার আজ সেখানে শুধুই ধান ও অন্যান্য ফসলের খেত। সড়কের কোনো চিহ্ন বা অবশিষ্টাংশও আর চোখে পড়ে না। দুই পাশের জমির মালিকেরা নিজেদের সীমানা বাড়াতে বাড়াতে পুরো রাস্তাটিই ‘ছিনতাই’ করে নিয়েছেন।স্থানীয় বাসিন্দা বাঐখোলা মন্ডল বাড়ির নিজামুদ্দিন মন্ডলের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই সড়কটি ছিল রুদ্রপুর চাকিপাড়া,বাঐখোলা, সোনারামপুর, দেবরাজপুর সহকয়েকটি গ্রামের মানুষের মূল সড়কে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম। এর মধ্যে চাকিপাড়া হতে হাবিলাগাড়ি পর্যন্ত এক কিলোমিটার রাস্তার চিত্র পাওয়া গেছে। অবশিষ্ট এক কিলোমিটার হাবিলা গাড়ি থেকে দুক্কি মরা বটতলা পর্যন্ত রাস্তাটি নিখোঁজ রয়েছে। সড়কটি নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর থেকে এলাকার মানুষকে এখন মাইলের পর মাইল পথ ঘুরে বিকল্প রাস্তায় চলাচল করতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও পথচারীরা। ফসলি জমি থেকে উৎপাদিত পণ্য আনা নেওয়ার মতো সাধারণ অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।স্থানীয় ভুক্তভোগী আব্দুস সালাম জানান, "এখানে একটা আস্ত রাস্তা ছিল, যা দিয়ে আমরা নিয়মিত যাতায়াত করতাম। কিন্তু পাশের জমির মালিকেরা রাতের আঁধারে এবং বিভিন্ন সময়ে মাটি কেটে কেটে রাস্তাটা একদম শেষ করে দিয়েছে। এখন আমাদের অন্যের জমির আইল দিয়ে হেঁটে যেতে হয়। বর্ষাকালে দুর্ভোগের কোনো শেষ থাকে না।"নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী জানান, সড়কের পাশের জমির মালিকেরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। পর্যায়ক্রমে লাঙল ও কোদাল দিয়ে মাটি কেটে রাস্তার জমি নিজেদের চাষাবাদের আওতায় নিয়ে এসেছেন তারা। সরকারি সম্পত্তি এভাবে প্রকাশ্যে দখল করে নেওয়ার পরও এতদিন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় সচেতন মহল।অবিলম্বে সরকারি এই সম্পত্তি দখলমুক্ত করে রাস্তাটি পুনর্নির্মাণ করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। একই সাথে সরকারি সম্পদ বিনষ্টকারী ও রাস্তা দখলকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে চান্দাইকোনা ইউনিয়ন ভূমি অফিস এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা জানান, সরকারি রাস্তা কেটে ব্যক্তিগত জমিতে রূপান্তর করা সম্পূর্ণ অবৈধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত সীমানা নির্ধারণ এবং রাস্তাটি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তারা। চান্দাইকোনা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান খান বলেন, জরুরী ভিত্তিতে সরকারি রাস্তা ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।এ ব্যাপারে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি ) মোঃ আব্দুল খালেক পাটোয়ারীর মুঠোফোনে এ সংক্রান্ত একটি খুদে বার্তা পাঠানো হলেও রাত ৯টা(২৬মে) পর্যন্ত কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা