প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬
সলঙ্গায় কোরবানীর পশুর হাট: ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভীড়
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ঐতিহ্যবাহী সলঙ্গা পশুর হাট যা এক সময় গরুর হাট নামেই পরিচিত ছিল।সিরাজগঞ্জগ জেলার উল্লেখযোগ্য৷ বেশ কয়েকটি পশুর হাটের মধ্যে অন্যতম,বৃহত্তম ও জনপ্রিয় পশুর হাট সলঙ্গা।আজ সোমবার বসেছে এই হাট।দূর দূরান্ত থেকে ব্যাপারীরা ভুটভটি,পিকআপ ও ট্রাকে করে তাদের পশু নিয়ে আসতে শুরু করেছে।সকাল থেকেই শুরু হয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক।জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্রেতারা তাদের পশু বিক্রি করতে আসেন এই হাটে।ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক ও দরদামে সরগরম হয়ে ওঠে এ পশুর হাট।মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা ধারদেনা ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ২/১ টি করে পশু বাড়িতে লালন পালন করেছেন ঈদে বিক্রির আশায়।বছর শেষে তারা কিছু লাভের আশায় নিজেরা পরিশ্রম ও যত্ন করে খড়,খৈল,ভুষি,বাঁশের পাতা,কাঁচা ঘাস,খুদের ভাত ইত্যাদি দিয়ে এ সব পশু লালন পালন করেছেন।তাই বিল ও নদী কূল এলাকার প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত ঘাসখড় খেয়েও বড় হওয়া পশু ও দেশীয় পদ্ধতিতে মোটা তাজাকরণ পশু এ হাটে বেশি পাওয়া যায়।অন্যান্য বছরের তুলনায় গো-খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে তাদের।তাই দাম নিয়ে অনেকটা শঙ্কায় খামারি ও ক্ষুদ্র পশু পালনকারীরা।এবারের হাটে বড় গরুর তুলনায় ছোট ও মাঝারি আকারের গরু-ছাগলের চাহিদা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষেরা ছুটছেন ছোট ও মাঝারি গরু কিনতে।সলঙ্গা পশুর হাট হাট ইজাদার সূত্রে জানা যায়,প্রতি বছর কোরবানির ঈদের সামনে এই হাটে কোটি টাকার পশু বেচাকেনা হয়।উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হাটিকুমরুল রোড থেকে প্রায় চার কি:মি: পশ্চিমে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সুতিকাগার বলে পরিচিত সলঙ্গা হাটটি প্রাচীন ঐতিহ্য বয়েই চলেছে।দেশের বিভিন্ন এলাকা ও দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা সহজেই ভুটভুটি ও ট্রাকে করে গরু নিয়ে আসতে পারেন।পশুর এই হাটে মূলত দেশি ও খামারে লালন-পালন করা গরুর সমাহার দেখা যায়।স্থানীয় খামারিরা তাদের লালন-পালন করা গরু এই হাটে বিক্রির জন্য আনেন।প্রতি বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এই হাটে কয়েক কোটি টাকার পশুর লেনদেন হয়,যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে।রায়গঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: আমিনুল ইসলাম জানান,এ বছর রায়গঞ্জ উপজেলায় মোট কোরবানির পশুর সংখ্যা হলো ৭১ হাজার ০৭২ টি। উপজেলায় এ বছর কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ২৬ হাজার ৩২৮টি। ৪৪ হাজার ৭৪৮ টি পশু দেশের বাইরে চাহিদা মেটাবে। উপজেলার সলঙ্গা থানার সলঙ্গা,ভূইয়াগাঁতী,ঘুড়কা, নলকা,সাহেবগঞ্জ ও হাটিকুমরুল মোট ৬ টি পশুর হাট রয়েছে।তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ও ঐতিহ্যবাহী হাট সলঙ্গা। প্রতি বছরই ঈদ উপলক্ষ্যে সলঙ্গা পশুর হাটে মেডিকেল টিম থাকে। এ পশুর হাটে শুধু স্থানীয় ক্রেতা ও পাইকারদের আনাগোনাই নয়,দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকাররা ভালো মানের গরু কেনার জন্য সলঙ্গা হাটে আসেন।ঈদুল আযহায় সলঙ্গা পশুর হাটে গরু কিনতে এসে কোনো প্রকার হয়রানি হতে হয় না। হাট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন পশু কেনাবেচার ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও জাল টাকার বিষয়ে তৎপর রয়েছে।এমনকি দূর দূরান্ত থেকে আসা ব্যাপারীদের পশু কেনাবেচার জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সব ধরনের সহযোগীতা করা হয়।হাট ইজারাদার কে.এম রোকনুজ্জামান জানান,সলঙ্গা একটি ঐতিহ্যবাহী গরুর হাট। অনেকে দূর দূরান্ত থেকে কোরবানির পশু কেনাবেচা করতে আসে।তাদের নিরাপত্তাসহ যেন কোনো ধরনের সমস্যা না হয় সে জন্য রায়গঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও সলঙ্গা থানা পুলিশের সহযোগীতায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা করে থাকি। সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আছলাম আলী জানান,ঈদের আগে থেকেই এলাকায় গরু চুরি-ছিনতাইসহ আইন শৃঙ্খলার অবনতি যেন না ঘটে,সে জন্য সলঙ্গা থানা পুলিশের দিবা-রাত্রি টিম ওয়ার্ক চলছে।ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে সলঙ্গায় গরুর হাটগুলোতে আমাদের পুলিশের টিম জোরদার করা হয়েছে।এ ছাড়াও সলঙ্গা গরুর হাটে জাল টাকা সনাক্তকরণে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা