প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
ভিজিএফ চাল পরিবহন, বিতরণ খরচ: বিপাকে রায়গঞ্জের ৯ইউপি চেয়ারম্যান
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফ এর ২৮৪মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ভিজিএফ-এর চাল বিতরণ করা হবে। একজন দুস্থ ১০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে দুস্থদের নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সোমবার সব ইউনিয়ন ভিজিএফ চাল বিতরণের দিন ধার্য করা হয়েছে। এনিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান,সচিব ও সদস্যগণ।উপজেলায় মোট নয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ও একটি পৌরসভা রয়েছে। তবে সরকারিভাবে চাল বিতরণের বরাদ্দ থাকলেও গুদাম থেকে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত চাল নেওয়ার ট্রাক ভাড়া ও শ্রমিক খরচ বাবদ কোনো অর্থ বরাদ্দ না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগন । পকেটের টাকা খরচ করে এই কার্যক্রম সচল রাখতে হচ্ছে বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে বরাদ্দকৃত চাল সংগ্রহ করে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় বা নির্ধারিত পয়েন্টে নিয়ে আসার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের। কিন্তু এই চাল পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় ট্রাক বা ট্রলি ভাড়া এবং বস্তা ওঠানো-নামানোর জন্য শ্রমিকদের মজুরি সরকারিভাবে প্রদান করা হয় না।উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান খান বলেন, ঈদুল ফিতরের পূর্বে এই চাল বিতরণের সময় তার অনেক টাকা খরচ হয়েছে। খাদ্য গুদাম থেকে বস্তা ট্রাকে তুলতে লেবার বিল, ট্রাক ভাড়া, বিতরণের দিন বিভিন্ন প্রকারের খরচ সরকারিভাবে দেওয়া হয় না।নলকা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ রেজাউল করিম জানান, একেকটি ইউনিয়নে কয়েক হাজার কার্ডধারীর জন্য কয়েক টন চাল বরাদ্দ থাকে। এই বিশাল পরিমাণ চাল গুদাম থেকে আনতে বড় ধরনের পরিবহন খরচ হয়। গত ঈদুল ফিতরের সময় তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে। এই টাকা সম্পূর্ণই পকেট থেকে ব্যয় করা হয়েছে। এই ব্যয় চেয়ারম্যানদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। তারপরেও চেয়ারম্যানরা এই ব্যয় বহন করে আসছেন।সোনাখারা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার বলেন,দূরত্বভেদে প্রতিটি ইউনিয়নে চাল পৌঁছাতে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ট্রাক ভাড়া গুনতে হয়। গুদামে ট্রাক লোডিং এবং ইউনিয়নে ট্রাক আনলোডিং করার জন্য কয়েক হাজার টাকা লেবার খরচ দিতে হয়। কোনো বরাদ্দ না থাকায় অনেক চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত তহবিল বা পকেট থেকে এই টাকা পরিশোধ করছেন। তারা একে "অত্যন্ত কষ্টকর ও অবাস্তব" বলে অভিহিত করেছেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বলেন, ভিজিএফ-এর চাল বিতরণে কোনো প্রকার অনিয়ম রোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকে, যা প্রশংসনীয়। কিন্তু চাল পৌঁছানোর নূন্যতম খরচটুকু না দেওয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ভুক্তভোগী জনপ্রতিনিধিরা জানান, ভিজিএফ-এর চাল বিতরণের জন্য কার্ডপ্রতি বা টনপ্রতি নির্দিষ্ট হারে পরিবহন ও লেবার খরচ সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া জরুরি। এতে কাজের স্বচ্ছতা বাড়বে এবং চেয়ারম্যানদের ওপর বাড়তি আর্থিক বোঝা লাঘব হবে।এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগন খরচ মেটানোর জন্য আবেদন করলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। সরকারি নীতিমালায় পরিবর্তন বা বিশেষ বরাদ্দ না আসা পর্যন্ত বিদ্যমান নিয়মেই কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হবে।উল্লেখ্য মানবিক এই সহায়তা কার্যক্রমকে আরও বেগবান এবং দুর্নীতিমুক্ত করতে মাঠ পর্যায়ের এই বাস্তবিক সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা