প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
টাকার লোভে নবজাতক বিক্রি: সন্তান ফিরে পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন গর্ভধারিণী মা
সাব্বির মির্জা,, তাড়াশ, সিরাজগঞ্জ। ||
টাকার লোভে নিজের সদ্যজাত কন্যাসন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছেন দাদা সোলেমান হোসেন । নিজের কলিজার টুকরোকে ফিরে পেতে এখন তাড়াশ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের এক ইউনিয়ন থেকে অন্য ইউনিয়নে, আর প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে পাগলের মতো ঘুরছেন এক অসহায় গর্ভধারিণী মা।চাঞ্চল্যকর ও অমানবিক এই ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের মৌহেশ্বরহালী গ্রামে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৌহেশ্বরহালী গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারের গৃহবধূ গত কয়েকদিন আগে একটি ফুটফুটে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। সন্তান জন্মের পর থেকেই পরিবারের অভাব-অনটনের সুযোগ নিয়ে নবজাতককে বিক্রির পরিকল্পনা করেন শিশুটির দাদা।গত (৮ মে) মা ও শিশুর অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে এবং টাকার প্রলোভনে পড়ে শিশুটির দাদা গোপনে নিঃসন্তান এক পরিবারের কাছে নবজাতকটিকে বিক্রি করে দেন। সন্তানকে বিছানায় না পেয়ে মা যখন চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করেন, তখন বিষয়টি জানাজানি হয়।সন্তান চুরির বিষয়টি বুঝতে পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মা নাছিমা বেগম। সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য ছটফট করছেন তিনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই মা নাছিমা বেগম বলেন,ওরা আমার কলিজা ছিঁড়ে নিয়ে গেছে। টাকার জন্য নিজের নাতনিকে কীভাবে মানুষ বিক্রি করতে পারে? আমি কোনো টাকা চাই না, আমি শুধু আমার বুকে আমার সন্তানকে ফেরত চাই। প্রশাসন যেন আমার বাচ্চাকে এনে দেয়।"ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর থেকে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। টাকার জন্য নিজের বংশের নবজাতককে বিক্রি করে দেওয়ার মতো অমানবিক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী। তারা অবিলম্বে এই ঘটনার সাথে জড়িত দাদাকে মানবপাচার চক্রের শাস্তি এবং শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।অসহায় মা তার সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আসায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং তাড়াশ থানা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।এই বিষয়ে তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো হাবিবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে ।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা