প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬
তালের রসে সয়লাব তাড়াশ-নিমগাছি সড়ক: মৌসুমি স্বাদে মুগ্ধ ক্রেতারা
সাব্বির মির্জা, তাড়াশ, সিরাজগঞ্জ ||
তীব্র গরমের স্বস্তি আর সুমিষ্ট স্বাদের টানে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ-নিমগাছি আঞ্চলিক সড়কের এক বিশেষ অংশ এখন ভোজনরসিকদের প্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। জ্যৈষ্ঠের তীব্র দাবদাহের মধ্যে এই সড়কের পাশে বসা তালের রসের দোকানগুলো প্রতিদিন শত শত মানুষের ভিড়ে মুখরিত থাকে। শুধু স্থানীয়রাই নন, দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও ভেজালমুক্ত এই তালের রস উপভোগ করতে।তাড়াশ উপজেলা সদর থেকে নিমগাছি বাজার যাওয়ার আঞ্চলিক সড়কটির দুই পাশে রয়েছে সারিবদ্ধ প্রচুর তাল গাছ। স্থানীয় গাছিরা ভোর রাত থেকেই গাছ থেকে রস সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সকাল হওয়ার সাথে সাথেই সড়কের নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে, বিশেষ করে ছায়াবৃত এলাকাগুলোতে প্লাস্টিকের জার, কলস এবং গ্লাস নিয়ে বসে যান বিক্রেতারা।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই সড়কে ক্রেতাদের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি থাকে। এক গ্লাস ঠান্ডা তালের রস খেয়ে কলিজা জুড়াতে রিকশাচালক, দিনমজুর থেকে শুরু করে প্রাইভেটকার বা মোটরসাইকেল নিয়ে আসা সচ্ছল পরিবারের সদস্যরাও ভিড় করছেন। অনেককে আবার বোতল বা জারে করে পরিবারের জন্য রস কিনে নিয়ে যেতেও দেখা যায়।মৌসুমি এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অনেক পরিবারের অর্থনীতিতে গতি এসেছে। গাছি ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়: প্রতি গ্লাস তালের রস সাধারণত ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর লিটার প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। তাদের দৈনিক আয়: একজন বিক্রেতা প্রতিদিন গড়ে ১,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত রস বিক্রি করছেন।একজন স্থানীয় গাছি জানান, "গাছে ওঠা অনেক কষ্টের কাজ হলেও রস বিক্রি করে যে লাভ হয়, তাতে আমরা খুশি। এই দুই মাস আমাদের বাড়তি ভালো আয় হয়।"এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, তাড়াশ-নিমগাছি আঞ্চলিক সড়কের এই তালের রসের বাজারটি এখন এই অঞ্চলের একটি অস্থায়ী ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। এই অঞ্চলের তাল গাছগুলো সংরক্ষণ করা যায় এবং গাছিদের সহজ শর্তে ঋণ বা প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তবে এই মৌসুমি ব্যবসা গ্রামীণ অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা