প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
গাবুরায় বনদস্যুদের সঙ্গে যোগসাজশ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মানববন্ধন
ফয়জুল হক বাবু, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: ||
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে সুন্দরবননির্ভর বনজীবীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, বনদস্যুদের সঙ্গে যোগসাজশ এবং সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে হয়রানির অভিযোগে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।সোমবার সকালে ইউনিয়নের চাঁদনিমুখী বেড়িবাঁধে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মেহেদী হাসান, জি এম বিল্লাল হোসেন ও জি এম ইয়াসিন আরাফাতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গাবুরা ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সুন্দরবনে গিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁদের অভিযোগ, বনদস্যুদের তৎপরতা ও চাঁদাবাজির কারণে দীর্ঘদিন ধরে বনজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে।বক্তাদের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা স্থানীয় চাঁদাবাজ ও বনদস্যুদের সঙ্গে যোগসাজশ করে সুন্দরবনগামী জেলেসহ বনজীবীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেন। কোনো কোনো জেলের কাছ থেকে ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। আদায় করা অর্থের একটি অংশ বনদস্যুদের দেওয়া হয় বলে তাঁদের দাবি। জি এম বিল্লাল হোসেন ও তাঁর ছেলে জি এম ইয়াসিন আরাফাতের বিরুদ্ধেও এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তোলেন বক্তারা। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পরও তাঁরা নতুন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।অন্যদিকে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন বক্তারা। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে বলেও মানববন্ধনে দাবি করা হয়।এ সময় মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ব্যবসায়ী বাবলুর রহমান। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মেহেদী হাসান শ্যামনগর এলাকায় গেলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরদিন শ্যামনগর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৬৫ ও ৩৮৬ ধারায় মামলা করা হয় এবং পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও থানার কর্মচারীর বিরুদ্ধেও হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ করা হয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগগুলোর তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে সুন্দরবননির্ভর জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং চাঁদাবাজি ও বনদস্যুতা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী শেখ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে জোনাব আলী, এনামুল হক, সালাউদ্দিন বাপ্পী, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জি এম মঞ্জু, শ্রমিক আজমুন নাহার, রওশানারা ও মনি উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া স্থানীয় জেলে-বাওয়ালি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা মানববন্ধনে অংশ নেন।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা