প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
খানাখন্দে বেহাল সাতৈর-ডোবরা সড়ক, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি
নাজিম বকাউল , ফরিদপুর ||
গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে যানবাহন, ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। বৃষ্টিতে গর্তগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় বাড়ছে আরো ঝুঁকি। যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা, এমন আশঙ্কার মধ্যেই প্রতিদিন চলাচল করছে হাজারো মানুষ। ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর-ডোবরা-দাদপুর সড়কের এমন বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আজ রবিবার সকালে সংশ্লিষ্ট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর-ডোবরা-দাদপুর সড়কটি প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় কয়েকশ খানাখন্দ। কোথাও উঠে গেছে পিচ, কোথাও সৃষ্টি হয়েছে গভীর গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে যাওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও রোগী বহনকারী যানবাহনসহ প্রতিদিন শত শত যানবাহনকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সড়কটি দিয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে যানবাহনকে কখনো রাস্তার মাঝখান, কখনো একেবারে কিনারা ঘেঁষে চলতে হচ্ছে। এতে মুখোমুখি সংঘর্ষ কিংবা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের পুকুর-খাদে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা শাহিদ শেখ বলেন, ‘রাস্তা ভেঙে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। গাড়ি চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এর আগে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে গেছে। প্রায়ই এখানে দুর্ঘটনা ঘটছে। নছিমনচালক কায়েম বিশ্বাস বলেন, ‘গর্তে পড়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। প্রতিবার গাড়ি নিয়ে বের হলেই দুর্ঘটনার ভয় থাকে।’সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় এক ভ্যানচালক জানান, কিছুদিন আগে একটি পিকআপ তাঁর ভ্যানে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে যায়। এতে প্রাণহানি না হলেও সড়কের বর্তমান অবস্থায় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা মো. পাচু শেখ বলেন, খালেক মাতুব্বরের বাড়ির কাছে, সেলিম শিকদার, তুজাম শিকদার, কালাম, সিরাজ, হাবিবুর রহমান, নজরুল ও রেজাউলের বাড়ির সামনে সড়কের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। এসব স্থানে প্রায়ই যানবাহন উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।জানতে চাইলে বোয়ালমারী উপজেলা প্রকৌশলী পূর্ণেন্দু সাহা বলেন, ‘সাতৈর-ডোবরা-দাদপুর সড়কটি প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি ফরিদপুর-রাজবাড়ী প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে সড়কটির কাজ শুরু হবে।’উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন, ‘উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য এলজিইডিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে সড়কটি মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।’স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রকল্প অনুমোদন ও কাজ শুরুর অপেক্ষায় আর কতদিন ঝুঁকি নিয়ে চলতে হবে? তাঁদের দাবি, পূর্ণাঙ্গ সংস্কার শুরু না হওয়া পর্যন্ত অন্তত জরুরি ভিত্তিতে সড়কের বড় গর্তগুলো ভরাট ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশ মেরামত করা হোক।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা