প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬
খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়ি ঘিরে ফরিদাকে নিয়ে আলোচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি চেয়ারপারসন (প্রয়াত) বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন বর্তমানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রশাসন বিভাগের যুগ্ম কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বর্তমান পদায়ন নিয়ে পুলিশের একটি অংশে আলোচনা ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।প্রাপ্ত তথ্যে বলা হয়েছে, ২০ ব্যাচের কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়ার ঘটনার পর বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) পান।অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাঁকে ডিএমপিতে পদায়ন করা হয় এবং এরপর থেকেই তিনি প্রশাসন বিভাগের যুগ্ম কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কারান্তরীণ ডিএমপির সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার ঘনিষ্ঠ হিসেবে ফরিদার মাধ্যমে পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিদেশে অবস্থানরত সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়ার ঘটনাপ্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে একটি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা দেওয়া হয়। ওই দিন পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তাঁকে ঢাকা মেট্রো ঘ-১১-৭০৪৪ নম্বরের একটি সাদা রঙের পাজেরো গাড়িতে করে নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।তখন ফরিদা ইয়াসমিন ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) ছিলেন এবং ওই পাজেরোটি তাঁর দাপ্তরিক ব্যবহারের গাড়ি ছিল বলে তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রাপ্ত তথ্যে আরও বলা হয়েছে, কারাগারে নেওয়ার সময় গাড়ির পেছনের আসনে ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর পাশে ছিলেন গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম এবং অতিরিক্ত ডিআইজি সালমা সৈয়দ পলি। সামনের আসনে ছিলেন তৎকালীন ডিসি ফরিদা ইয়াসমিন।এতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ জুন অতিরিক্ত ডিআইজি সালমা সৈয়দ পলিকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হলেও ফরিদা ইয়াসমিন ডিএমপিতেই বহাল রয়েছেন।স্বামীকে নিয়েও অভিযোগপ্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফরিদা ইয়াসমিনের স্বামী মো. আশরাফুল ইসলাম বর্তমানে পুলিশ সদরদপ্তরের ক্রাইম মেট্রো বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে কর্মরত। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনিও বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) পেয়েছিলেন।প্রাপ্ত তথ্যে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চিনিকল-সংক্রান্ত উচ্ছেদ অভিযানের সময় জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন আশরাফুল ইসলাম। ওই অভিযানে পুলিশের গুলিতে তিনজন সাঁওতাল নিহত হন এবং পরবর্তীতে সাঁওতাল পল্লীতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এতে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তীতে তাঁকে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে ৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে বদলি করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিজেকে বঞ্চিত পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করে তিনি পুলিশ সদরদপ্তরে পদায়ন নেন এবং একই সময়ে তাঁর স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন ডিএমপিতে পদায়ন পান বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।নথিতে যা উল্লেখ রয়েছেপ্রাপ্ত তথ্যে বলা হয়েছে, ফরিদা ইয়াসমিন ২০১৫ সালের ১০ জুন থেকে ২০২২ সালের ১৩ জুলাই পর্যন্ত ডিএমপিতে কর্মরত ছিলেন। এ সময়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিরোধী দল দমনে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।পুলিশের নথি পর্যালোচনার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০১৮ সালের ৪ মার্চ ফরিদা ইয়াসমিন তাঁর ব্যবহৃত পাজেরো গাড়ির জন্য ৪৮৬ লিটার অকটেন বরাদ্দ নেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রায় ঘোষণার আগে ডিএমপি কমিশনার সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন এবং সেখানে ফরিদা ইয়াসমিন নিজের গাড়িতে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।এতে আরও দাবি করা হয়েছে, দায়িত্ব পালন শেষে তিনি নিজের সহকর্মীদের কাছে এ বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তবে এ দাবির পক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।পাজেরো গাড়ির বর্তমান অবস্থানঅনুসন্ধানের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়াকে বহনকারী ওই পাজেরো গাড়িটি পরে পুলিশ সদরদপ্তরে নেওয়া হয়। বর্তমানে গাড়িটি সেখানেই রয়েছে এবং এটি ব্যবহার করা হচ্ছে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রতিবেদনের শেষে পুলিশের একটি অংশের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে গাড়িটি সংরক্ষণ করা উচিত। তবে এ বিষয়ে পুলিশ সদরদপ্তরের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা