প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬
সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাঝেই উল্লাপাড়ায় গাছ কাটার মহোৎসব
উল্লাপাড়া প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ : ||
একদিকে দেশজুড়ে চলছে সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, অন্যদিকে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সড়ক প্রশস্তকরণের নামে চলছে নির্বিচারে গাছ কাটার মহোৎসব। উপজেলার পাচলিয়া–বড়হর আঞ্চলিক সড়কের বাদুল্লাপুর থেকে অলিপুর পর্যন্ত প্রায় এক হাজার গাছ কেটে ফেলায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে গাছ কাটার এই ঘটনায় এলজিইডির ভূমিকা নিয়ে উঠেছে বড় ধরনের প্রশ্ন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে উল্লাপাড়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য সড়কের দুই পাশের গাছে মার্কিং (ছাল কেটে নম্বর দেওয়ার প্রস্তুতি) শুরু করে। কিন্তু সরকারিভাবে নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই গাছগুলো কাটা শুরু হয়।অভিযোগ রয়েছে, যারা গাছে মার্কিংয়ের কাজ করছিলেন, তারা স্থানীয় অনেককে বলেছিলেন, "ছাল কেটে গেলাম, নম্বর দেওয়ার আগেই গাছ সরিয়ে নিতে হবে।" এই মৌখিক নির্দেশ পাওয়ার পর অনেকেই নিজেদের দাবি করা গাছগুলো দ্রুত কেটে সরিয়ে নেন।পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও রহস্যগাছ কাটার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সড়কের পাশে যেসব গাছ কাটা হয়েছে, তার বেশিরভাগই তাদের নিজস্ব জমিতে লাগানো ছিল। তাই তারা নিজেদের গাছ নিজেরাই কেটেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, এলজিইডির লোকজনই তাদের গাছ সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছিলেন।তবে এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন উল্লাপাড়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. শহিদুল্লাহ। তিনি বলেন:"আমাদের অফিস থেকে কাউকে গাছ কাটতে বলা হয়নি। গাছগুলো নিলামে বিক্রির জন্য মার্কিং করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই গাছ অপসারণের কথা। নিলামের আগে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার সুযোগ নেই।"ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়াসরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির এমন সময়ে কোনো ধরনের নিলাম বা নিয়ম না মেনে প্রায় এক হাজার গাছ উজাড় করে ফেলার ঘটনাটি সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার পেছনে কোনো অসাধু চক্রের যোগসাজশ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম বলেন, "বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়মতো প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে সরকারি এই সম্পদ চুরির ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা