প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬
অবহেলার দীর্ঘশ্বাসে বন্দি কয়ড়া গ্রামের রাস্তা: জনপ্রতিনিধিদের দেখেও যেন দেখছেন না কেউ!
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
‘এটি কেবল একটি রাস্তা নয়, এটি আমাদের কয়েক হাজার মানুষের বেঁচে থাকার লাইফলাইন। অথচ যুগের পর যুগ ধরে এই লাইফলাইনটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে।’ আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন ৯ নং ব্রক্ষগাছা ইউনিয়নের কয়ড়া গ্রামের স্থানীয় এক বাসিন্দা।জানা গেছে, ৩ নং ওয়ার্ডের কয়ড়া শিমুলতলা থেকে কয়ড়া পূর্বপাড়া জামে মসজিদ এবং কয়ড়া সন্ন্যাসী দিয়ার পর্যন্ত বিস্তৃত রাস্তাটি বর্তমানে জনদুর্ভোগের এক চরম নিদর্শনে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ স্কুল-কলেজ, বাজার, হাসপাতালসহ উপজেলা সদরে যাতায়াতের জন্য এই পথ ব্যবহার করেন। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটির বেহাল দশা দীর্ঘদিনের।যেখানে কষ্টের নাম যাতায়াত:স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষাকালে হাঁটু সমান কাদা আর শুকনো মৌসুমে ধুলাবালির রাজত্বে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। রাস্তা জুড়ে খানাখন্দ আর ভাঙাচোরা পরিস্থিতির কারণে জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছানো কিংবা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য পরিবহন করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।অভিযোগের আঙুল যাদের দিকে:সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, এই এলাকা দিয়েই নিয়মিত যাতায়াত করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। চেয়ারম্যান-মেম্বাররা রাস্তার এই দুরবস্থা নিজের চোখে দেখেও যেন না দেখার ভান করছেন। স্থানীয়দের মতে, যারা জনগণের সেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন, তারাই আজ জনগণের এই দুর্দশায় নির্বিকার।ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী বলেন, “ছোটবেলা থেকে দেখছি রাস্তাটি ভাঙাচোরা। কত আশ্বাস পেয়েছি, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বৃষ্টির দিনে বই-খাতা বাঁচিয়ে স্কুলে পৌঁছানোই এখন আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ।”দাবি একটাই, দ্রুত সংস্কার:জনগণের দুর্ভোগ আর কতদিন চলবে? এই প্রশ্ন এখন পুরো এলাকাবাসীর। গ্রামের মানুষ কোনো বিশেষ সুযোগ-সুবিধা চায় না, তারা কেবল তাদের মৌলিক অধিকার—একটি সচল ও নিরাপদ রাস্তা চায়।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানীয়দের জোরালো দাবি, কালক্ষেপণ না করে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি সংস্কার করে কয়ড়াবাসীর যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘব করা হোক। জনপ্রতিনিধিদের প্রতিশ্রুতি যেন আর কেবল কথায় সীমাবদ্ধ না থেকে এবার কাজে প্রতিফলিত হয়—সেটাই এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা