প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬
কাজিপুরে চায়না দুয়ারির আগ্রাসন: হুমকির মুখে দেশীয় মৎস্যসম্পদ!
টিএম কামাল,, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ। ||
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের অবাধ ব্যবহারে দেশীয় মাছের বংশবিস্তার চরম হুমকির মুখে পড়েছে। আষাঢ় মাসজুড়ে যখন দেশীয় প্রজাতির বেশিরভাগ মাছ ডিম ছাড়ে ও বংশবিস্তার করে। ঠিক তখনই নির্বিচারে চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করায় জলজ জীববৈচিত্র্যসহ মৎস্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন খাল, বিল, নালা ও নদীতে চায়না দুয়ারি বসিয়ে দিনরাত মাছ ধরা হচ্ছে। এসব ফাঁদে শুধু বড় মাছই নয়। রেনু, পোনা ও ডিমওয়ালা মাছও আটকা পড়ছে। যা প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবিস্তারকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে বছরের পর বছর নিষিদ্ধ ফাঁদ ব্যবহার হলেও মৎস্য বিভাগের কার্যকর অভিযান না থাকায় অসাধু জেলেরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এতে একদিকে যেমন দেশীয় মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তেমনি মৎস্যসম্পদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চরাঞ্চলের এলাকার বাসিন্দারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, "আগে বর্ষাকালে যমুনা, ইছামতি নদী, খাল-বিলে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এখন চায়না দুয়ারির কারণে সব মাছ ধরা পড়ে যাচ্ছে। মাছ ডিম দেওয়ার আগেই ধরে ফেলায় আগের মতো মাছ আর পাওয়া যায় না। এজন্য মৎস্য বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপ ও নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন।" জনসধারণের দাবি, চায়না দুয়ারি একবার বসালে পানির ভেতরের প্রায় সব মাছ আটকা পড়ে। এতে কোনো মাছই রক্ষা পায় না। গুটি কয়েক জেলের লাভের জন্য উপজেলায় দেশীয় মৎস্যসম্পদ ধ্বংস হচ্ছে। তাই চায়না দুয়ারি বন্ধে সরকারিভাবে কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি হয়ে পড়েছে।মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়না দুয়ারি বা সূক্ষ্ম ফাঁসের অবৈধ জাল ব্যবহারের ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এসব জাল ব্যবহার দেশীয় প্রজাতির মাছের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও সরকার বিভিন্ন সময়ে এ অবৈধ উপকরণ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। কিন্তু গড়বাস্তবে মাঠপর্যায়ে কার্যকারিতা দেখা যায় না বললেই চলে। অভিযোগ উঠেছে, মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে হঠাৎ অভিযান চালানো হলেও জেলেরা কি যেন অদৃশ্য শক্তির ইশারায় পূর্বেই খবর পেয়ে যায়। কাজিপুর উপজেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, "চায়না দুয়ারি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা হচ্ছে এবং যেখানে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সেখানে অভিযান ভবিষ্যতে জোরদার করা হবে। অবৈধভাবে মাছ শিকারকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, "মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হবে। কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে স্থানীয়দেরও সচেতন হয়ে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।"
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা