প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬
সুন্দরগঞ্জে নদীগর্ভে বিলীন ৫ শতাধিক বসতভিটা: হুমকিতে বিস্তীর্ণ জনপদ
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় গত এক সপ্তাহে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ৫ শতাধিক বসতভিটা, আবাদি জমি ও রাস্তাঘাট। বর্তমানে ভাঙনের মুখে পড়েছে আরও শত শত পরিবারের ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ডান তীরের পুরাতন বেড়িবাঁধসহ বিস্তীর্ণ এলাকা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বেলকা, হরিপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়ন সম্পূর্ণরূপে এবং তারাপুর, দহবন্দ, শান্তিরাম, কঞ্চিবাড়ি, শ্রীপুর, চণ্ডিপুর ইউনিয়ন ও পৌরসভার আংশিক এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে তিস্তা নদী। এছাড়া কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভাটিতে তিস্তার সঙ্গে মিলিত হয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদ। সম্প্রতি নদ-নদীতে পানি বাড়তে শুরু করায় উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।ভাঙনের তীব্রতা এতই বেশি যে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন তাদের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও গবাদিপশু সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পাচ্ছেন না। চোখের পলকে বসতভিটা, আবাদি জমি, গাছপালা ও বাঁশঝাড় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সর্বস্ব হারিয়ে অনেকেই এখন খোলা আকাশের নিচে, রাস্তার ধারে কিংবা অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।ভাঙনরোধে স্থায়ী কোনো সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। কাপাসিয়া ইউনিয়নের উত্তর লালচামার, ভোরের পাখি, উজান বুড়াইল, কেরানীরচর ও ভাটি বুড়াইল এলাকার আবুল হোসেন, রবিউল ইসলাম, শাহ্ কামাল, জাহাঙ্গীর, জাফর আলী, জয়নাল আবেদীন, মমিনুল ইসলামসহ অনেকেই আর্তনাদ করে বলেন, দিন-রাত অবিরাম ভাঙনে চোখের পলকে আমাদের শেষ সম্বলটুকু নদী কেড়ে নিয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় দাঁড়াবো, কী খাবো—তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। প্রতি বছর আমরা সর্বস্বান্ত হলেও ভাঙনরোধে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।এদিকে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।কাপাসিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জু মিয়া এবং ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম ও হাবিজার রহমান জানান, তীব্র ভাঙনে যেসব পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে তাদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে।এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রোববার (২৮ জুন) দুপুরে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, "বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এছাড়া ভাঙনকবলিত অন্যান্য স্থানে স্থায়ী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।"সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফ্ফাত জাহান তুলি জানান, "নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করে দ্রুত উপজেলা প্রশাসনে জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ভাঙনরোধে জরুরি ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে বিশেষ বরাদ্দের চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সহায়তা বিতরণ করা হবে।"
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা