প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
এক সময় গ্রামে গ্রামে শোভা পাওয়া হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখির বাসা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
সাব্বির মির্জা, বাবুই পাখিরে ডাকি, বলিছে চড়াই, ‘কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই, আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে, তুমি কত কষ্ট পাও রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে’ কবি রজনীকান্ত সেনের এই অমর কবিতাটি এখনো হয়তো বাংলা বইয়ে পাঠ্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত। শুধু পাঠ্যপুস্তকে এই কবিতা পড়ে এখনকার শিক্ষার্থীরা শিল্পী পাখি বাবুইয়ের কথা জানতে পারছে। যদিও এখন আর চোখে পড়ে না বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন সেই ছোট্ট বাসা তৈরির নৈসর্গিক দৃশ্য। কারুশিল্পের নিখুঁত নিদর্শন, পরিশ্রম ও একাগ্রতার প্রতীক বাবুইর বাসা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। এক সময় তালগাছ, খেজুর গাছ কিংবা যে কোনো ধরণের উঁচু গাছে শোভা পেত বাবুই পাখির বাসা। এখন আর এসব চোখে পড়ে না বললেই চলে। সম্প্রতি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দিঘী সদগুনা, পাচান ও গোডাউন মোড়ে কয়েকটি তালগাছে বাবুই পাখির বাসা দেখা গেছে।বৃহস্পতিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দিঘী সদগুনা গ্রামের একটি পুকুর পারে তালগাছের পাতায় ঝুলছে বাবুই পাখির বেশ কটি বাসা। উপজেলা থেকে দিঘী সদগুনা ৫ কিলোমিটার দূরে দৃশ্যটি দেখতে ভিড় করছেন কৌতূহলী মানুষ।জানা যায়, বাবুই পাখিকে ‘তাঁতি পাখি’ বলে ডাকা হয়। গ্রীষ্মকাল থেকে তাদের প্রজনন মৌসুম শুরু। এ সময় পুরুষ বাবুই খড়কুটো জোগাড় করে নিজের ঠোঁট দিয়ে গাছের পাতায় সেলাইয়ের মতো করে নিপুণভাবে বাসা গড়ে তোলে। বাবুইয়ের বাসা আগের মতো গ্রামের আঁকাবাঁকা পথে আর তেমনটি দেখা যায় না। তাল ও খেজুরগাছ কমে যাওয়ায় তাদের বাসা বানানোর উপযুক্ত স্থানও কমছে।ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাসুম মির্জা বলেন, ৫ বছর ধরে আমাদের তালগাছে বাবুই পাখি বাসা বাঁধছে। ছোটবেলায় এই দৃশ্য ছিল খুবই স্বাভাবিক। এখন গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে, ফলে বাবুইর বাসাও হারিয়ে যাচ্ছে। বাবুই পাখির বাসা এক সময় বাংলার গ্রামে গ্রামে শোভা পেত। আজ তা স্মৃতির পাতায়। বাবুইর বাসা রক্ষায় এখনই সচেতনতা ও উদ্যোগ প্রয়োজন। নইলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শুধু বইয়ের পাতায় এসব দেখবে।এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, বাবুই পাখি টিকিয়ে রাখতে তালগাছ, খেজুরগাছসহ দেশীয় গাছ আরও বেশি করে লাগাতে হবে। পরিবেশবান্ধব কৃষি ও কীটনাশক নিয়ন্ত্রণেরও উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা