প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
রায়গঞ্জে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যের ঘোড়ার গাড়ি: স্মৃতিতে আজ শুধুই নীরব সাক্ষী
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
একসময় যে রায়গঞ্জের গ্রামীণ জনপদ মুখর থাকত ঘোড়ার গাড়ির টুংটাং শব্দে, আজ তা কেবল স্মৃতির পাতায় বন্দি। সময়ের অমোঘ নিয়মে আর আধুনিকতার স্রোতে গা ভাসিয়ে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই বাহনটি আজ বিলুপ্তির পথে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যানবাহনের দাপটে রায়গঞ্জের রাস্তাঘাট থেকে হারিয়ে গেছে এক সময়ের জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য এই বাহন।কয়েক দশক আগেও রায়গঞ্জের গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল ঘোড়ার গাড়ি। যাতায়াত কিংবা কৃষিপণ্য পরিবহন—সবক্ষেত্রেই ছিল এর অবাধ বিচরণ। হাট-বাজারে কৃষকের পণ্য আনা-নেওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে বর-কনে বহনেও ঘোড়ার গাড়ির কদর ছিল আকাশচুম্বী। স্থানীয় প্রবীণদের মতে, তৎকালীন সময়ে অনেক পরিবার এই পেশাকে কেন্দ্র করেই তাদের জীবিকা নির্বাহ করত এবং পরিবারের স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করেছিল।সময়ের বিবর্তনে অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল এবং ট্রাক্টরের মতো ইঞ্জিনচালিত যানবাহনের সহজলভ্যতা ঘোড়ার গাড়ির চাহিদাকে সংকুচিত করে ফেলেছে। তবে চাহিদাহ্রাসের পেছনে আরও কিছু গভীর সংকট রয়েছে: বর্তমান সময়ে ঘোড়া পালন ও গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।গ্রামাঞ্চলে চারণভূমির সংকট এবং ঘোড়ার খাবারের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি মালিকদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। আধুনিক দ্রুতগতির বাহনের তুলনায় ধীরগতির হওয়ায় এবং উপার্জনের পথ সংকুচিত হওয়ায় নতুন প্রজন্ম এই পেশার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।উপজেলার ঘোড়ার গাড়ির মালিকদের কণ্ঠে ফুটে উঠেছে হতাশা। তারা জানান, পর্যাপ্ত ঘাসের অভাব আর ঘোড়ার চিকিৎসার চড়া খরচের কারণে এখন আর পোষাতে পারছে না। যে ঐতিহ্য ধরে রাখতে পূর্বপুরুষরা লড়াই করেছেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির চাপে পড়ে আজ তা হাতছাড়া করতে হচ্ছে তাদের।রায়গঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইলিয়াস হাসান শেখ বলেন, “ঘোড়ার গাড়ি আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অবিস্মরণীয় স্মারক। সময়ের প্রয়োজনে ইঞ্জিনচালিত বাহন এলেও, ঐতিহ্যের এই বাহনটিকে পুরোপুরি বিলীন হতে দেওয়া যায় না। এটি সংরক্ষণে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।”সংস্কৃতিপ্রেমীদের মতে, ঘোড়ার গাড়ি কেবল একটি বাহন নয়, এটি আমাদের গ্রামীণ জীবনধারা, ইতিহাস ও সংস্কৃতির ধারক। আধুনিকতার চাকচিক্যে হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনটি আজ কেবল অতীতের গৌরবগাথার এক নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রায়গঞ্জের মাটি ও মানুষের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখা যাবে কি না—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা