প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
আগস্টে সারা দেশে শোডাউনের পরিকল্পনা আওয়ামী লীগের
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
আসন্ন আগস্ট মাসে ঢাকাসহ সারা দেশে বড় ধরনের শোডাউন করার চিন্তা করছে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা। এজন্য তারা নানা কৌশলে সংগঠিত ও সক্রিয় হচ্ছেন।নিষিদ্ধ থাকার পরও ছাত্রলীগ জেলা, উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠন করেছে। সিরাজগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, শেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজসহ প্রায় দুই ডজন কমিটি ইতোমধ্যে গঠিত হয়েছে।ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা সক্রিয়তা লক্ষ করা যাচ্ছে। নির্বাচনের পর আত্মগোপনে থাকা মধ্যম সারির কিছু নেতা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন। বিদেশ থেকেও কিছু নেতা দেশে ফিরেছেন। তবে এসব নেতা এলাকায় চুপচাপ অবস্থান করছেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপপ্রচার সামনে আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে খুব কম লোক প্রকাশ্যে কথা বলছেন।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেছেন, শেখ হাসিনা ও ভারতের টার্গেট ছিল ড. ইউনূস। কারণ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পর ড. ইউনূস প্রথম ভারতের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা বলেছেন। ক্ষমতায় এসে তিনি ভারতীয় আধিপত্যবাদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশকে ডিস্টার্ব করলে ভারতের সেভেন সিস্টার ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন ড. ইউনূস।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে সংস্কার আনা, মার্কিন চুক্তি ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থাকুক—এটা ভারত চায় না। এসব কারণে ড. ইউনূস ভারতের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। আর ভারতের টার্গেট মানেই আওয়ামী লীগের টার্গেট। মূলত এ দেশে ভারতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে আওয়ামী লীগ। এ অবস্থায় ড. ইউনূসকে নিয়ে অপপ্রচার ঠেকাতে ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে আবার একজোট হওয়া উচিত।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেছেন, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। তাকে হেয়প্রতিপন্ন করলে ব্যক্তির চেয়ে দেশের সুনাম বেশি নষ্ট হবে। তিনি নেতিবাচক কোনো সমালোচনাকে সমর্থন করেন না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থাকবে, তবে যুক্তিতর্ক দিয়ে সমালোচনা করতে হবে। গায়ের জোরে লাগামহীন সমালোচনা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য নয়।বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেছেন, আওয়ামী লীগ তার রাজনৈতিক কৌশলে ফেরার চেষ্টা করবে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের দুর্নীতিসহ নানা বিষয়ে তারা রাজনীতি করার চেষ্টা করবে এবং দেশে ঢোকার সুযোগ কাজে লাগাতে চাইবে। তবে যা করতে হবে, তা আইনি কাঠামোর মাধ্যমে করতে হবে। কোনো হঠকারিতা দেশের মানুষ আর মেনে নেবে না।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা