প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
মহিষলুটি বাস কাউন্টার যাত্রী ভোগান্তির আঁতুরঘর: প্রশাসনের নজরদারি কামনা
সাব্বির মির্জা, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) ||
হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের মহিষলুটি নামক স্থানের বাস কাউন্টারগুলো এখন সাধারণ যাত্রী ভোগান্তির আঁতুরঘরে পরিণত হয়েছে। কাউন্টারগুলোতে সেবার নামে চলছে এক ধরণের ‘জিম্মি দশা’। দূর-দূরান্তের যাত্রীদের কাছ থেকে চড়া ভাড়া আদায় করা হলেও, টিকিট বিক্রির পর কাউন্টার কর্তৃপক্ষের আর কোনো দায়িত্ববোধ দেখা যায় না। ফলে প্রতিনিয়তই চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন এই রুটে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ।অভিযোগ উঠেছে, কাউন্টারগুলোতে 'কাউন্টার মাস্টার' হিসেবে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের আচরণ ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। তারা যাত্রীদের কাছ থেকে গন্তব্যের পুরো ভাড়া আদায় করে বাসের মান যাচাই না করেই যত্রতত্র বাসে তুলে দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব শেষ করেন।অনেক সময় দূরপাল্লার যাত্রীদের মাঝপথে নানা অজুহাত দেখিয়ে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। ফলে বাধ্য হয়ে যাত্রীদের আবার অতিরিক্ত টাকা খরচ করে লোকাল বাসে করে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। আবার কোনো কোনো বাস নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছালেও সাধারণ সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ সময় বেশি নেয়। এই কাউন্টার থেকে সাধারণত রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, যশোর, বেনাপোল ও চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী চলাচল করেন।গত বৃহস্পতিবার এই কাউন্টার কর্তৃপক্ষের চরম দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতির শিকার হয়েছেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ‘দৈনিক দিনকাল’ পত্রিকার প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম।ভুক্তভোগী সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি রাজশাহী যাওয়ার উদ্দেশ্যে মহিষলুটি কাউন্টার থেকে টিকিট কাটেন। কিন্তু কাউন্টার কর্তৃপক্ষ তাকে দূরপাল্লার বাসের কথা বলে নাটোরের একটি লোকাল বাসে তুলে দেয়। ফলস্বরূপ, চরম ভোগান্তি ও পথিমধ্যে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে তিনি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় ২ ঘণ্টা দেরিতে রাজশাহী পৌঁছান। যথাসময়ে পৌঁছাতে না পারায় তিনি তার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাষ্ট্রীয়/ব্যক্তিগত কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি।"মহিষলুটি কাউন্টারের লোকদের কাছে যাত্রীরা যেন জিম্মি। টাকা নেওয়ার পর তারা আর যাত্রীদের মানুষ বলেই গণ্য করে না। এই ভোগান্তির শেষ কোথায়?" প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি ভুক্তভোগী যাত্রী ও সচেতন মহলের প্রশ্ন— যখন যাত্রী সেবার মান এই পর্যায়ে নেমে এসেছে, তখন যাত্রী সেবার নামে কেন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন বা ভাড়া কেটে নেওয়া হচ্ছে? কাউন্টারগুলোর এই সিন্ডিকেট ও নৈরাজ্য খতিয়ে দেখতে এবং সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে স্থানীয় প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেবে— এটাই এখন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা