প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
বিতরণ ‘স্বচ্ছ’, তালিকা ‘গোপন’! তাড়াশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ছাগল বিতরণে ধোঁয়াশা
সাব্বির মির্জা, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) ||
বিতরণ করা হয়েছে শতভাগ ‘স্বচ্ছ’ প্রক্রিয়ায়, কিন্তু সুফলভোগীদের সেই তালিকা রাখা হয়েছে ‘গোপন’! সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের মাঝে ছাগল বিতরণ কর্মসূচি নিয়ে এমনই এক রহস্যজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিতরণ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম না থাকার দাবি করা হলেও, সুফলভোগীদের তালিকা প্রকাশে খোদ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অপারগতা প্রকাশ করায় স্থানীয় মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নানামুখী গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—যদি কোনো অনিয়মই না থাকে, তবে তালিকা প্রকাশে বাধা কোথায়?অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল তাড়াশ উপজেলার ২০০ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সদস্যের মাঝে প্রাণিসম্পদ বিভাগের আওতায় ছাগল বিতরণ করা হয়। সরকারের এই জনকল্যাণমুখী উদ্যোগকে শুরুতে সাধুবাদ জানিয়েছিলেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে যখন বিতরণের পর প্রকৃত সুফলভোগীদের তালিকা দেখতে চাওয়া হয়।বিতরণ প্রক্রিয়াটি নিয়ম মেনে হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে সংবাদকর্মীরা সুফলভোগীদের তালিকা দেখতে চাইলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: শরিফুল ইসলাম তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানান। এতেই মূলত সন্দেহের দানা বাঁধতে শুরু করে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, যদি প্রকৃত দুস্থ ও নৃ-গোষ্ঠীর মানুষরাই ছাগল পেয়ে থাকেন, তবে তালিকা লুকাতে হবে কেন? তালিকা গোপন করার মানেই হচ্ছে এর পেছনে কোনো শুভঙ্করের ফাঁকি বা ঘাবলা রয়েছে।সাধারণত সরকারি যেকোনো প্রকল্প বা প্রণোদনা বিতরণের পর তার তালিকা প্রকাশ করা বা উন্মুক্ত রাখা নিয়ম। কিন্তু তাড়াশের এই ছাগল বিতরণের ক্ষেত্রে তালিকা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা স্পষ্টতই কোনো বড় অনিয়ম, দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতির দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সচেতন মহলের মতে—যদি কোনো চুরির ঘটনা না ঘটে থাকে, তবে দরজা বন্ধ করে রাখার প্রয়োজন পড়ে না। তালিকা প্রকাশ না করা পর্যন্ত এই বিতরণ প্রক্রিয়া নিয়ে জনগণের মনের সন্দেহ দূর হবে না।এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: শরিফুল ইসলাম বলেন স্বচ্ছতা ভাবেই ছাগল বিতরণ করা হয়েছে এবং তালিকার বিষয়টি গোপনীয় এটা আমি দিতে পারবো না। তালিকা নিতে চাইলে আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করুন। তবে তালিকা প্রদর্শনে তাঁর এই অপারগতা ধোঁয়াশাকে আরও ঘনীভূত করেছে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাড়াশের সচেতন মহল এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং একটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তালিকা প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন তাড়াশের সর্বস্তরের মানুষ। সত্যিই কি এর পেছনে কোনো বড় অনিয়ম লুকিয়ে আছে, নাকি এটি কেবলই কর্মকর্তার খামখেয়ালি—তা কেবল তদন্তের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসা সম্ভব।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা