প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
জনদুর্ভোগের নাম ধানগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা: দেখার কি কেউ নেই?
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ধানগড়া উচ্চ বিদ্যালয়। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি এখন নিজেই ধুঁকছে এক চরম অবহেলার কারণে। বিদ্যালয়টির সামনে দিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির বর্তমান বেহাল দশা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।সরেজমিনে দেখা যায়, ধানগড়া পুরাতন চৌরাস্তা থেকে পল্লী বিদ্যুৎ মোড় পর্যন্ত সংযোগ সড়কটির অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, একে আর রাস্তা বলা চলে না। পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এই গর্তগুলো মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়। কাদা পানিতে তলিয়ে থাকে রাস্তাটি, যার ফলে কোনো ধরনের যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ পথচারীদের হাঁটাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, রায়গঞ্জ পৌরসভার অন্তর্গত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ চলাচল করে। কিন্তু রাস্তাটির বর্তমান পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত বিড়ম্বনা চরমে পৌঁছেছে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে শঙ্কিত থাকেন। রাস্তাটি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচলের সময় প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। অনেকে পথিমধ্যে পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছেন, নষ্ট হচ্ছে পোশাক ও বইপত্র। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, রাস্তার এমন দুরবস্থার কারণে শিক্ষার্থীরা বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে যেতে অনীহা প্রকাশ করছে।স্থানীয় সচেতন মহল ও রাজনীতিবিদরা বিভিন্ন সময়ে রাস্তাটি মেরামতের দাবি জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। বিষয়টি যেন দেখার কেউ নেই। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, প্রশাসনের নজরে থাকা সত্ত্বেও একটি জনগুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনের রাস্তার এমন করুণ দশা কেন মাসের পর মাস অতিক্রান্ত হবে?ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাফি আহমেদ জানায়, "প্রতিদিন স্কুলে আসতে গিয়ে আমাদের চরম কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়। রাস্তাটি এতই খারাপ যে রিকশা বা ভ্যান চালকরাও এ পথে আসতে চান না। আমাদের পড়াশোনার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।"স্থানীয় ব্যবসায়ী মো: রহিম বলেন, "অনেকদিন ধরে শুনছি রাস্তা হবে, কিন্তু কাজ আর শুরু হয় না। রাজনীতিবিদরা এই রাস্তাটির কাজের জন্য চেষ্টা করলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এখন আমাদের একটাই দাবি, দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করে সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী করা হোক।"অটো ভ্যান চালক আব্দুস সামাদ বলেন, উপজেলার এত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির বেহাল দশা অথচ কেউ দেখছে না। প্রতিদিন ভ্যান গাড়ির চাকা আটকে যাচ্ছে যাত্রী পড়ে যাচ্ছে।শরিফুল ইসলাম শরীফ ধানগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন উপজেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ এর সামনের রাস্তা এতদিন ধরে বেহাল অবস্থা পড়ে রয়েছে এটা মানার মত নয়।রায়গঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি হাতেম আলী সুজন বলেন, এই বেহাল রাস্তা নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা মিটিং এ একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। পথচারীদের মারাত্মক ভোগান্তি শুরু হয়েছে। দফায় দফায় আইন-শৃঙ্খলা মিটিং এ উত্থাপন করা হলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের নজরে আসেনি বলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।রায়গঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মোঃ মোশারফ হোসেন আনন্দ বলেন, এই রাস্তাটির দুর্ভোগ এখন চরম পর্যায়ে। যে রাস্তা দিয়ে ধানগড়া উচ্চ বিদ্যালয়, ধানগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই থেকে আড়াই হাজার শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। এছাড়াও ধানগড়া বাজারের হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত। এখানেই শেষ নয় বাগবাটি থেকে ভূইয়াগাতি রাস্তার একমাত্র চলাচলের মাধ্যম এই রাস্তাটি। অথচ সেখানে প্রশাসনের নজরদারি নেই। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং লজ্জাজনক। তিনি অনতবিলম্বে এই রাস্তাটি মেরামত করে চলাচল উপযুক্ত করে দেওয়ার দাবি জানান।এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ রবিউল আলম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সেখানে পৌরসভার যে ড্রেনের ব্যবস্থা আছে এটা নষ্ট হয়ে গেছে এ কারণে সেখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও রাস্তাটি অত্যন্ত নিচু হওয়ার কারণেওজলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। আপাতত আমাদের মেরামতের কোন উদ্যোগ নেই। এভাবেই চলতে হবে। আগামী বছর এটা আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে রাস্তা করনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পৌরসভা নিউজ উদ্যোগে রাস্তাটি মেরামতের কাজ করতে পারে বলেও তিনি জানান।তবে এ ব্যাপারে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক আব্দুল খালেক পাটোয়ারীর সাথে যোগাযোগ করা হলেও মুঠোফোন না ধরায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ধানগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দসহ স্থানীয় এলাকাবাসী এখন কেবল সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের সুরক্ষা ও জনদুর্ভোগ লাঘবে রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা এখন সময়ের দাবি।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা