প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
ফুলজোড় নদীতে স্বপ্নের সেতু: বদলে যাবে ধানগড়ার চিত্র!
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা সদরের প্রধান বাজার ধানগড়া । একসময়ের জমজমাট ও ব্যস্ত এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রটি বর্তমানে অবকাঠামোগত অবহেলা ও যাতায়াত ব্যবস্থার প্রতিকূলতায় ধুঁকছে। বাজারের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা ও অর্থনৈতিক চাকা সচল করতে দীর্ঘদিন ধরে ফুলজোড় নদীর ওপর পুরাতন খেয়াঘাটেদ্বিতীয় সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। তবে আশার কথা হলো, এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত দাবিটি এখন বাস্তবায়নের পথে।স্থানীয় ব্যবসায়ী,রাজনীতিবিদ ও প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, অতীতে ফুলজোড় নদীর ওপর নির্মিত একটি সেতু ধানগড়া বাজারকে মূল সড়কের সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। সেতুটি বাজারের পুরাতন চৌরাস্তা থেকে ডাকবাংলো পুরাতন খেয়াঘাটে স্থাপন না করে অন্যত্র করায় একটি বাইপাস সড়ক তৈরি হয়। এর ফলে বাজারটি মূল সংযোগ সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে। বাজারের পাশ দিয়ে যাওয়া আঞ্চলিক সড়কটি এখন বাজার বিস্তারের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুযোগ-সুবিধার অভাবে অনেক ব্যবসায়ী বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন এবং বাজারের আকার ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হয়ে আসছে।দীর্ঘদিনের এই সংকটের সমাধানে স্থানীয়রা ধানগড়া পুরাতন চৌরাস্তা-ডাকবাংলো সংলগ্ন ফুলজোড় নদীর ওপর পুরাতন খেয়াঘাটে দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এলাকাবাসীর এই যৌক্তিক দাবিটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় থেকে স্থানটি একাধিকবার পরিদর্শন করা হয়েছে। সচিব পর্যায়ে অনুষ্ঠিত একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকসহ স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেতুটির গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। প্রতিটি সভা এবং সমাবেশেসর্বসম্মতভাবে উঠে এসেছে যে, এই সেতুটি নির্মিত হলে ধানগড়া বাজারের অর্থনৈতিক চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যাবে।সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফুলজোড় নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটি চূড়ান্ত পর্যায়ে কবে নাগাদ অনুমোদন হবে তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এই সেতুটি শুধুমাত্র একটি অবকাঠামো নয়, এটি ধানগড়া বাজারের সামগ্রিক যোগাযোগ ও অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচনের চাবিকাঠি।ধানগড়া বাজার রক্ষা ও এর হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিক সমাজ। প্রকল্পের আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন করে নির্মাণ কাজ শুরুর মাধ্যমে জনদুর্ভোগ লাঘব হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন অত্র অঞ্চলের মানুষ। এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা, কবে নাগাদ ফুলজোড় নদীর বুকে আরো একটি স্বপ্নের সেতুটি বাস্তবে রূপ নেবে।এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশলীঅধিদপ্তরের সিরাজগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রেজাউর রহমান বলেন, এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব প্রতিবেদন আকারে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা