প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
বেলকুচির দৌলতপুরে অবৈধ প্রসেস মিল, দুর্ভোগে ৫০০ পরিবার
সবুজ সরকার , বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) ||
বাড়ি থেকে বের হলেই কালচে পানি। পানির উপরে ভাসছে প্রসেস কারখানার ময়লা আবর্জনা পানি। পানির ভিতর দিয়ে যাতায়াত করার কারণে দেখা দিয়েছে ঘা পাঁচড়া। বাড়ির আঙিনায় টিউবওয়েলের চাপ দিলে পানি বের হচ্ছে বিভিন্ন রংয়ের। এ ভাবেই দীর্ঘ দুই যুগ ধরে বসবাস করছেন সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর মতি মার্কেট এলাকার ৫শত পরিবার। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাই ভাই অবৈধ প্রসেস মিলের কারখানার বর্জ্যের পানির কারণে এলাকায় বসবাস করা অনুপযোগী হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই এই ময়লা আবর্জনা যুক্ত পানি এলাকায় ছড়িয়ে পরে। হালকা বাতাসে প্রচন্ড দুর্গন্ধ ছড়ায়। শনিবার দুপুরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার দৌলতপুর মতি মার্কেটের পাশেই প্রসেস মিল। স্থানীয় এমপি নির্দেশে কিছু দিনের জন্য বন্ধ থাকলেও আবার চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দীর্ঘ দিনের বর্জ্যে পানি জমে থাকায় হালকা বৃষ্টিতে এলাকার বিভিন্ন বসত বাড়ির আঙিনায় উঠে যাচ্ছে। এসব পানি থেকে বাতাসে দুগ্ধে ছড়িয়ে পরছে সেখানে দাড়িয়ে থাকা কষ্টকর। স্থানীয় বাসিন্দা কামনা রানী বলেন, এই প্রসেসের নোংড়া জলের কারণে আমাদের শরীরে বার মাসি ঘা পাঁচড়া থাকে। পানি খেতে পারি না। আমাদের দুঃখের শেষ নেই। শামীন বাবু বলেন, এখানে দুই যুগ ধরে সমস্যা প্রতি বছর বছর আশে পাশে বাড়ি গুলোতে ঘরের টিন পরিবর্তন করতে হয়। এ বর্জ্য পানির এতই পাওয়ার টিন পর্যন্ত ঝাঁঝরা হয়ে যায়। কারখানার পাশেই মতি মার্কেট তাজবিদুল নূরানী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জুবায়ের প্রচন্ড আক্ষেপ করে বলেন, এ দুর্ভোগ নিরসনের জন্য উপর মহলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ করার পরেও কোন কাজ হয়নি। এই বর্জ্যের পানি প্রচন্ড পরিমান দুর্গন্ধ যা সহ্য করার মত না ক্লাস নেওয়ার প্রায় সময় দরজা জানালা বন্ধ করে নিতে হয়। মাদ্রসার ভিতরের টিউবওয়েলের পানি প্রাণ করা যায় না। প্রায় আধা কিলোমিটার দূর থেকে পানি আনতে হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, প্রায় দুই যুগ ধরে দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ- সভাপতি আমিরুল ইসলাম প্রভাব খাটিয়ে এই কারখানা স্থাপন করেছেন। যা আমাদের এখন মরনের ফাঁদ। মমতা খাতুন বলেন, এই পরিবেশের কারণে আমাদের এলাকায় কোনো আত্নীয় স্বজন বাড়িতে আসতে চায় না। আমরা কত কষ্টকরে বসবাস করছি তা এক মাত্র আল্লাহ্ ভালো যানে। তাঁত শ্রমিক শরিফুল ইসলাম বলেন, ২৪ বছর ধরে দুঃখের কথা বলেই যাচ্ছি কোনো কাজ হচ্ছে না। রাতে ঘুমাতে পারি না মশার উপদ্রবে। দিনে বাড়ির আঙিনায় দুর্গন্ধে থাকা যায় না। মাঝে মাঝে ভাবি বাড়ি ঘর ফেলে রেখে অন্য কোথাও চলে যায়। মাদ্রাসার ছাত্র রাফিত বলেন, বৃষ্টি হলে পঁচা পানি পেরিয়ে মাদ্রাসায় যেতে হয়। পায়ে চুলকানি হয় চুলকানির যন্ত্রনায় ঠিক মত পড়াশোনা করতে পারি না। স্থানীয় বাসির অভিযোগ, এক প্রসেস মিল এখন ৫০০ পরিবারের মরন ফাঁদ। আমরা একবেলা না খেয়ে থাকলেও কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এই কারখানা কারণে এলাকার ৫শত পরিবার খুবই দুর্ভোগে আছে। ভাই ভাই প্রসেস মিলের স্বত্বাধিকারী আমিরুল ইসলামের কারখানায় গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। কারখানায় বিষয়ে তার ভাতিজা রাজু আহাম্মেদ বলেন, আপাতত কারখানা বন্ধ রেখেছি। ঢাকায় অফিসে গিয়ে দেখা করে এসেছি। তারা যে ভাবে নিয়ম মাফিক কারখানা চালু করতে বলে সেই ভাবেই চালু করবো। এক বছর পর কারখানা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে।এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম মুঠোফোনে জানান, এর আগেও দৌলতপুরের বিষয়ে অভিযোগ ছিলো আইনগত বিষয়ে ইনফোর্সমেন্ট মেবি পাঠিয়ে ছিলাম। প্রসিকিউটর ভিতরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ইউএনও মহাদয়ের সাথে কথা বলবো। এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান বলেন, প্রসেস মিলের বর্জ্যের পানির কারণে জন দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে এমন অভিযোগ পেয়েছি। অতি দ্রুত পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা