প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
একটি বাড়িতেই আটকে আছে আড়াই লাখ মানুষের স্বপ্নের সেতু !
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ এলাকায় ফুলজোড় নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি সেতু ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম জটিলতা। স্থানীয়দের বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত এই সেতুর কাজ প্রায় ২০ শতাংশ সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়কের (অ্যাপ্রোচ রোড) নির্ধারিত স্থানে একটি মাত্র বাড়ি থাকায় থমকে গেছে পুরো প্রকল্পের অগ্রগতি। ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত এই জটিলতার কারণে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের স্বপ্নের সেতু বাস্তবায়ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফুলজোড় নদীর দুই পাড়ের দাদপুর, সাহেবগঞ্জ, ফরিদপুরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ করতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এই সেতু নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে। সেতুটি নির্মিত হলে রায়গঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে, বাঁচবে সময় ও অর্থ।বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে নদী পারাপারে এখানকার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও মুমূর্ষু রোগীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পার হতে হচ্ছে। সেতুটি চালু হলে এলাকার অর্থনীতি ও সামাজিক যোগাযোগে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, “সাহেবগঞ্জ ফুলজোড় নদীর ওপর পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ (২য় পর্যায়)” প্রকল্পের আওতায় এই কাজ চলছে। প্রাক্কলিত ব্যয়: ৪৩ কোটি ৩০ লাখ ৮৯ হাজার ৫৮৩ টাকা। চুক্তি মূল্য: ৪২ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৭৭৭ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান: মেসার্স মোস্তফা কামাল ট্রেডার্স। সেতুর দৈর্ঘ্য: ৩০০ দশমিক ৪০ মিটার (৭১০০ মিটার চেইনেজে)।বর্তমানে সেতুর পাঁচটি পিলারের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে পশ্চিম পাড়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি বুঝে না পাওয়ায় থমকে গেছে পরবর্তী কাজ।নলকা ইউনিয়ন বিএনপি'র সাবেক সভাপতিএনামুল হক মাস্টার বলেন,"একটি বাড়ির কারণে পুরো এলাকার উন্নয়ন থমকে থাকতে পারে না। আমরা চাই বাড়ির মালিক ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পাক এবং সাধারণ মানুষও তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি লাভ করুক। দ্রুত সমাধানের জন্য আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।"নলকা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রেজাউল করিম"ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সেতুর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।"মেসার্স মোস্তফা কামাল ট্রেডার্স স্বত্বাধিকারীমোস্তফা কামাল বলেন "আমরা শুরু থেকেই আন্তরিকভাবে কাজ করছি। কিন্তু সংযোগ সড়কের জায়গা না পাওয়ায় কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়টি দ্রুত সমাধান হলে আমরা স্বল্প সময়ের মধ্যেই নির্মাণকাজের গতি বাড়িয়ে দেব।"এদিকে অভিযুক্ত বা ভুক্তভোগী বাড়ির মালিক আমির হোসেন উন্নয়ন কাজের বিরোধিতা করছেন না উল্লেখ করে বলেন:"আমি এলাকার মানুষের সুবিধার জন্য সেতু নির্মাণ হোক, সেটাই চাই। কিন্তু আমার বসতবাড়ি ও সম্পত্তি অধিগ্রহণের বিষয়ে এখনো সন্তোষজনক কোনো সমাধান হয়নি। আমার পরিবারের বসবাসের একমাত্র জায়গা এটি। তাই যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও বিকল্প ব্যবস্থার (পুনর্বাসন) নিশ্চয়তা ছাড়া বাড়ি ছেড়ে দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।"সমস্যার কথা স্বীকার করে উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল আলম জানান, "সেতুর কাজ চলমান রয়েছে। তবে সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। আশা করছি দ্রুতই সমস্যা সমাধান করে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।"এলাকাবাসীর স্পষ্ট দাবি, দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির অবসান ঘটাতে প্রশাসনের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। একটি মাত্র পরিবারের আবাসন সমস্যার কারণে আড়াই লাখ মানুষের যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এভাবে বছরের পর বছর জিম্মি থাকতে পারে না। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকেও যেন নিয়মানুযায়ী উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়, সে ব্যাপারেও জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: জাকিরুল ইসলাম সান্টু
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোনায়েম খান
বার্তা সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা রুবেল
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক লাল বার্তা